দাবানল নিয়ন্ত্রণে যেয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, নিহত ২

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে দাবানল নিয়ন্ত্রণের সময় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই ক্রু সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

রবিবার (৯ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বন বিভাগের সঙ্গে চুক্তির আওতায় হেলিকপ্টার ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেসের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল সিকোরস্কি এস-৬৪ ‘স্কাইক্রেন’ হেলিকপ্টারটি। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে রিচফিল্ডের কাছে একটি জলাধার এলাকায় দাবানলের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের কাছে এটি বিধ্বস্ত হয়।

দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর শনিবার নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার (এনআইএফসি)। সংস্থাটি জানায়, দুর্ঘটনায় আরও দুই ক্রু সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি ও দুর্গম, খাড়া ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকারী দলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। পরে শনিবার ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ওই এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আশপাশের কয়েকটি সড়কও।

ডেপুটি ইনসিডেন্ট কমান্ডার টাইলার হেক্ট জানান, দুর্ঘটনার পর অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রমে ‘কৌশলগত বিরতি’ নেওয়া হয়। পরে আবারও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনাটি অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রভাব ফেলবে না। আগুন নেভাতে মাটিতে থাকা দমকলকর্মীদের সহায়তায় বিমান ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।

উটাহর গভর্নর স্পেন্সার কক্স বনাঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক কাজগুলোর অন্যতম’ হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

গত ২৭ জুলাই ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্টে বজ্রপাত থেকে ‘ওয়াইডমাউথ ২’ দাবানলের সূত্রপাত হয়। এরপর আগুনটি ১ লাখ ১১ হাজার একরের বেশি বনভূমি পুড়িয়ে দিয়েছে। ফলে এটি চলতি বছর উটাহর সবচেয়ে বড় দাবানলে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে।

কর্মকর্তারা শনিবার জানিয়েছেন, আগুনের প্রায় ২৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে দাবানলের গতিপথ এখনো আশপাশের জনবসতির জন্য হুমকি তৈরি করছে।

চলতি গ্রীষ্মে উটাহতে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দাবানল-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা। এর আগে গত জুনে কলোরাডো সীমান্তের কাছে নোলস ও গোর দাবানল নিয়ন্ত্রণে গিয়ে তিন দমকলকর্মী নিহত হন। পরে ওই ঘটনায় আহত আরেক দমকলকর্মীরও মৃত্যু হয়।