কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের কারণে জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রাদেশিক সরকার। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া 'বাল্ড রেঞ্জ' দাবানলের কারণে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শনিবার দাবানলটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং রাতারাতি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর বা ২৩ হাজার ৫০০ একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রদেশটির দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ এলাকায় সামারল্যান্ড, পিচল্যান্ডসহ ওকানাগান লেকের পশ্চিম তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অঞ্চলটি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অধিকাংশ ওয়াইন উৎপাদন করে এবং কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম ওয়াইন উৎপাদনকারী এলাকা।
এক সংবাদ সম্মেলনে প্রিমিয়ার ডেভিড এবি বলেন, এক অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তা দাবানলটির ভয়াবহতাকে 'বোমা বিস্ফোরণের' সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, গাছের ১০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পড়ছে এবং এর ওপর আরও ২০০ ফুট পর্যন্ত আগুনের শিখা উঠছে। দাবানল নিজস্ব আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি করছে, যার ফলে বজ্রপাত হচ্ছে এবং সেই বজ্রপাত আবার আগুন ছড়িয়ে দিচ্ছে।
এবি জানান, আগুনে ইতোমধ্যে বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ায় কিছু মানুষ আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছিলেন এবং তাদের উদ্ধার করতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত গতিশীল ও বিপজ্জনক।
২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, সামারল্যান্ডে প্রায় ১২ হাজার এবং পিচল্যান্ডে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ মানুষ বসবাস করেন। দাবানলের কারণে এ বছরের গ্রীষ্মে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হয়েছে। প্রদেশজুড়ে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জরুরি অবস্থা জারির ফলে প্রাদেশিক সরকার বিশেষ কিছু ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োগ করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ, পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি ঠেকানোর ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে উদ্ধার ও জরুরি কার্যক্রম সমন্বয়েও অতিরিক্ত ক্ষমতা পাবে কর্তৃপক্ষ।
সামারল্যান্ডের মেয়র ডগ হোমস বলেন, অনেক খামার দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঠিক কতটি স্থাপনা পুড়ে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতির আরও অবনতির জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবার রাত থেকেই অনেক বাসিন্দা এলাকা ছাড়তে শুরু করেন। কেউ দক্ষিণে পেন্টিকটন, আবার কেউ উত্তরে কেলোনার দিকে চলে যান। পরে আগুনের কারণে কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এলাকা ছাড়ার সময় বাসিন্দারা মহাসড়কের পাশে আগুন এবং বিভিন্ন স্থাপনা পুড়ে যাওয়ার ভিডিও ধারণ করেন। শনিবার বিকেলের দিকে আশপাশের এলাকাগুলোতে গাড়ি ও বাড়ির ওপর ছাই জমতে দেখা যায়। আকাশও আগুনের কমলা আভায় রঙিন হয়ে ওঠে।
দাবানলের কারণে শনিবার সামারল্যান্ডে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাশাপাশি বাসিন্দাদের পানি ফুটিয়ে পান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগুনের কারণে পানি শোধনাগার এড়িয়ে অপরিশোধিত পানি সরবরাহব্যবস্থায় ঢুকে পড়ায় এ সতর্কতা জারি করা হয়।
চলতি বছর কানাডার অন্টারিও ও কুইবেকসহ বেশ কয়েকটি প্রদেশেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ঘন বনাঞ্চলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে কানাডার দমকলকর্মীদের সঙ্গে মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ডের অগ্নিনির্বাপণকর্মীরাও কাজ করছেন।
