যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি কর্মীদের নতুন চাকরি খোঁজার জন্য দেওয়া ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের কথা বিবেচনা করছে দেশটির সরকার। প্রস্তাবটি বর্তমানে হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের (ওএমবি) পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি এবং প্রস্তাবিত পরিবর্তনের পুরো বিবরণও প্রকাশ করা হয়নি। রবিবার (৯ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য নিশ্চিত করে।
নিয়মটি চূড়ান্ত হলে চাকরি হারানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্মী ও তাঁদের নির্ভরশীলদের প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু ভিসাধারী কর্মীর কর্মসংস্থান তাঁদের অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেলে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ রয়েছে।
নতুন প্রস্তাবটি বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় প্রবাসীদের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, দক্ষ কর্মীদের জন্য চালু এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ভারতীয় নাগরিকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার (ইউএসসিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি আবেদনের ৭১ শতাংশের সুবিধাভোগী ছিলেন ভারতে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক। সাম্প্রতিক মার্কিন আদমশুমারি-ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা ৫২ লাখের বেশি।
বর্তমান ৬০ দিনের সুযোগটি ২০১৭ সালে চালু করা হয়েছিল। চাকরি হারানো উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের নতুন চাকরি খোঁজা বা বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু নন-ইমিগ্র্যান্ট কর্মীর চাকরি শেষ হয়ে গেলে তাঁরা সর্বোচ্চ টানা ৬০ দিন অথবা তাঁদের অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে হয়—যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। এই সুবিধা শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য নয়; ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ ও টিএন ভিসাধারীরাও এর আওতায় পড়েন। তাঁদের নির্ভরশীলরাও এই সুবিধা পান।
এই ৬০ দিনের সময়সীমা কর্মীদের নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা, নতুন ভিসার আবেদন করা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার অন্য কোনো পথ বিবেচনা করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ দেয়। কিন্তু প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে নতুন নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়া বা অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে যাবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করে হস্তক্ষেপ করতে পারবে।
প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এইচ-১বি ছাড়াও ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টিএন ভিসাধারী বিদেশি কর্মী ও তাঁদের নির্ভরশীলরা এর প্রভাবের মুখে পড়বেন।