বিশ্বজুড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও কল্যাণ অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নানা হুমকির মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বিশেষ করে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেসের দপ্তর জানায়, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬ শতাংশের বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ। তারা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রক্ষক, গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতন্ত্রের অভিভাবক এবং বিশ্বের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
গুতেরেস বলেন, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সাধারণ জনগোষ্ঠীর ব্যবধান সবচেয়ে স্পষ্ট। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে গর্ভকালীন ও প্রসবজনিত জটিলতা এবং মা ও শিশুর মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
এ কারণে এবারের বিশ্ব আদিবাসী দিবসে আদিবাসী ধাত্রীদের অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, আদিবাসী ধাত্রীরা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যগত ফলাফল উন্নত করতে, স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে এবং ধারাবাহিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আদিবাসীদের ভাষা, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছেন।
গুতেরেস বলেন, আদিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অধিকারভিত্তিক একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাতিসংঘ সদস্য দেশ ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি সরকারগুলোর প্রতি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় আদিবাসী রোগীদের অনেক সময় অদৃশ্য করে রাখা তথ্যের ঘাটতি দূর করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আদিবাসী ধাত্রী ও প্রসূতিসেবা কর্মীদের প্রশিক্ষণে আরও বিনিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি।
বিবৃতিতে আদিবাসী নারীদের নিজেদের শরীর ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গুতেরেস বলেন, ঐতিহ্যগত জ্ঞান নতুন জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আদিবাসী ধাত্রী ও তাঁদের সেবার ওপর নির্ভরশীল সম্প্রদায়গুলো যেন প্রয়োজনীয় সব সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
