ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ও বর্ণিল চরিত্র হোসে মরিনহো যখন ফের রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে, তখন মাঠের বাইরের উত্তাপ ছড়ানোর পাশাপাশি দলেও বড়সড় পরিবর্তন আসাই স্বাভাবিক। হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ফেরেঙ্কভারোসের বিপক্ষে শনিবার প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলের জয়ের পর লস ব্লাঙ্কোস শিবিরের অন্দরমহল থেকে এসেছে তেমনই কিছু রোমাঞ্চকর তথ্য।
রিভাস ও কার্লোস এসপী গোলে ম্যাচের ৫০ মিনিটের মধ্যেই লিড দ্বিগুণ করে রিয়াল। পরে ৫৭ মিনিটে কেনান কোদরোর গোলে ব্যবধান কমায় ফেরেঙ্কভারোস। সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত আর বদল আসেনি স্কোরলাইনে।
নতুন কোচের কঠোর অনুশাসন ও ভিন্নধর্মী ব্যক্তিত্ব দেখে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছেন রিয়ালের কাপ্তান ফেদে ভালভার্দে। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে মাদ্রিদে পা রাখা বার্নার্দো সিলভার অভিষেক এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ফিটনেস ও চুক্তি নবায়ন নিয়ে মরিনহোর খোলামেলা মন্তব্য রিয়াল সমর্থকদের মাঝে তুলেছে মিশ্র আলোচনার ঝড়।
ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ গণমাধ্যম এএস-এ প্রকাশিত মন্তব্যে ভালভের্দে কোচ মরিনহোকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা লুকাতে পারেননি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোচ জোসে মরিনহোকে আমার এমন মনে হবে, তা আমি সত্যিই আশা করিনি। মরিনহো খেলোয়াড়দের খুব কাছাকাছি থাকেন। শেষ পর্যন্ত তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি স্বভাব ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে আমাদের সঙ্গেই থাকেন। মাঝেমধ্যে তিনি কঠোর হন, তবে আমার মনে হয় একজন খেলোয়াড়ের উন্নতির জন্য এটাই একমাত্র পথ। তিনি যেভাবে আমাদের এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে আচরণ করেন, তা আমার দারুণ লাগে।’
এছাড়া বার্সেলোনায় রদ্রির যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে এই মিডফিল্ডার সরাসরি পাশ কাটিয়ে বলেন, ‘রদ্রির সিদ্ধান্ত? আমি শুধু নিজের কথা বলছি এবং একমাত্র ক্লাব ও সতীর্থদের নিয়েই ফোকাস করছি।’
এদিকে ফেরেঙ্কভারোসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে রিয়ালের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে পর্তুগিজ তারকা বার্নার্দোর। ম্যাচ শেষে ক্লাবের অফিশিয়াল চ্যানেলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ তিনি বলেন, ‘আমি খুবই খুশি এবং প্রথম ম্যাচ খেলতে পেরে সন্তুষ্ট। এটি এখনো কেবল প্রথম সপ্তাহ এবং আমার উন্নতি করার মতো অনেক কিছু বাকি আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মৌসুম ভালোভাবে শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাচ ফিটনেস অর্জন করা, আর আমরা সে নিয়েই কাজ করছি।’
মাঠে বার্নার্দোর বহুমুখী প্রতিভা নিয়ে মরিনহোও বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ‘ম্যাচের সময় আমি দেখলাম যে তার শারীরিক শক্তির কিছুটা ঘাটতি রয়েছে, তাই আমি তাকে ১০ নম্বর পজিশনে সরিয়ে নিয়েছি। সে এমন একজন খেলোয়াড় যে ৩-৪টি পজিশনে খেলতে পারে, যা যেকোনো কোচের জন্যই দারুণ ব্যাপার।’
অন্যদিকে, বিশ্বকাপ মিশন শেষে দেরিতে যোগ দেওয়া ভিনিসিয়ুসে চুক্তি বৃদ্ধি ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে মরিনহো বেশ ইতিবাচক সুরেই কথা বলেছেন। চুক্তি নবায়নের পর ভিনির মাঠে ফেরা প্রসঙ্গে মরিনহো বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুক্তি নবায়ন। চুক্তি নবায়ন তার জন্য যেমন আনন্দের উৎস, তেমনি আমাদের সবার জন্যই এটি আনন্দের।’
ভিনি ও বার্নার্দোর শারীরিক ধকল নিয়ে রিয়াল বস আরও জানান, ‘ভিনি এবং বার্নার্দো উভয়েই খুব কম অনুশীলন করেছে এবং বিশ্বকাপ শেষে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তারা ট্রেনিংয়ে অংশ নিয়েছে। ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত অবস্থাতেই তারা মাঠে নেমেছিল। আজ আমি ভিনির কাছ থেকে এমনটা আশা করিনি যে সে বল নিয়ে ৫০ মিটার দৌড়ে গোল করবে। এই প্রক্রিয়ার জন্য সময় লাগে এবং আগামী বুধবার (দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার বিপক্ষে) সে অবশ্যই আরও ভালো অবস্থানে থাকবে।’
সবমিলিয়ে, মরিনহোর কড়া মেজাজ, ভালভার্দের দায়িত্ববোধ, বার্নার্দোর নতুন শুরু এবং ভিনিসিয়ুসের ফেরার এই মিশেলে রিয়াল মাদ্রিদের অন্দরে বইছে এক নতুন পরিবর্তনের হাওয়া। নতুন মৌসুমে লস ব্লাঙ্কোসদের এই অপ্রতিরোধ্য জুটি শেষ পর্যন্ত কতটা আধিপত্য বিস্তার করতে পারে, সেই উত্তর তোলা রইল সময়ের কাছে।