যুক্তরাষ্ট্র সব শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না: আইআরজিসি

তেহরানের সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। শর্তগুলোর মধ্যে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

রবিবার (৯ আগস্ট) আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অবরোধ আরোপ করেছে তেহরান। একই সঙ্গে নিজেদের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে এবং সেই রুট এড়িয়ে চলার অভিযোগে কিছু জাহাজে হামলাও চালানো হচ্ছে।

যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকা এই জলপথে ধারাবাহিক হামলার কারণে এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে পরবর্তী জুনের সমঝোতার শর্তে ফিরে গিয়ে শান্তি আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল ও এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে তিনি বলেন, প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি আরও কিছু শর্ত এবং জুনের সমঝোতা লঙ্ঘনের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ওপর নির্ভর করছে।

রোববার আরাকচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে এমন দাবি নাকচ করে বলেন, দুই দেশ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শুধু ‘বার্তা আদান-প্রদান’ করছে।

এর আগে শনিবার ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানের কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ইরান এবং লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ও আগ্রাসন’ বন্ধ করা।

এ ছাড়া ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে বলে দেশটির তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

রোববার আইআরজিসি বলেছে, ‘শত্রুপক্ষ আমাদের সব শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখাই তাদের কৌশল। বাহিনীটি বলেছে, তাদের কাছে এই প্রণালি এখন শুধু একটি নৌপথ নয়, বরং কার্যত ‘যুদ্ধক্ষেত্র’।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ইরানের নির্ধারিত রুট এড়িয়ে চলার অভিযোগে কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) মালিকানাধীন একটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আমিরাত এ ঘটনাকে ‘শত্রুতামূলক হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করলেও এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানায়।

একই দিন যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, ওমানের উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে কোনো ধরনের একটি বস্তু আঘাত হানে। এতে আগুন ধরে গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং কেউ হতাহত হয়নি। তবে ইউকেএমটিওর উল্লেখ করা জাহাজটি এডিএনওসির ট্যাংকারটিই কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।