বিশ্বকাপের বেসরকারিকরণ ও ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্প নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে বাংলাদেশ আগাম কোনো সমর্থন দেয়নি বলে রবিবার জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই এ বিষয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক একটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ফিফা সভাপতির প্রস্তাবিত উদ্যোগকে বাংলাদেশ সমর্থন জানিয়েছে। তবে সেই খবর সরাসরি নাকচ করেছেন তাবিথ আউয়াল। তার ভাষ্য, বাফুফে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আগাম সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘ফেডারেশনের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্বাহী কমিটির (ইসি) সভায় আলোচনা ও অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্প নিয়েও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা ছিল। কিন্তু ইসি বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই ফিফা প্রকল্পটি বাতিল ঘোষণা করে।’ তাবিথ আউয়াল যোগ করেন, ‘আমরা কোনো অগ্রিম সাপোর্ট বা কনফার্মেশন দিইনি। কোনো ব্যক্তির জন্যও দিইনি, কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষেও দিইনি।’
ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত এই প্রজেক্টের আওতায় ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক স্বত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বর্তমানে 'ফিফা ফরোয়ার্ড' কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন ডলার পেয়ে থাকে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি সদস্য দেশ ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পেত। কিন্তু ইউরোপীয় ফুটবলের প্রধান সংস্থা ইউয়েফাসহ বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফিফা তাদের এই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
প্রকল্পটি বাতিল হলেও বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা থামেনি। বিশেষ করে ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার জোরালো অবস্থানের কারণে বিষয়টি এখন বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তাবিথ। তিনি বলেন, ‘ইস্যুটি ইউয়েফার একটি স্ট্রং ভূমিকা রাখার কারণে জিওপলিটিক্যাল রূপ নিচ্ছে। এ কারণে ইসির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্পোর্টস মিনিস্ট্রি এবং ফরেন মিনিস্ট্রির সঙ্গেও কথা বলতে হবে।’
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাফুফের নির্বাহী কমিটির সঙ্গে আলোচনা শেষে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি।