বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় কি তবে নতুন কোনো বড় রাজনৈতিক ঝড়ের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে? ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার নেপথ্যে একটি ‘সুসংহত ও চলমান চক্রান্ত’ চলছে বলে শনিবার এক বিবৃতিতে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ফিফা।
বাণিজ্যিক অধিকার বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন ডলার তোলার একটি বিতর্কিত প্রস্তাব মুখ থুবড়ে পড়ার পর থেকেই ফিফার অন্দরে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করে শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষমতার লড়াই। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সভাপতির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে ফিফা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর যেকোনো প্রচেষ্টাকে অবশ্যই ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে। ফিফা আরও স্পষ্ট করে বলেছে, তারা এমন কোনো প্রক্রিয়া সমর্থন, সহযোগিতা কিংবা সহ্য করবে না যা সংগঠনের সংবিধান, গণতান্ত্রিক নিয়মকানুন এবং সুশাসনের কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশ্বকাপসহ অন্যান্য টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক অধিকার বিক্রির ওই মেগা প্রস্তাবটি নিয়ে উয়েফা, বিভিন্ন জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফা। মরক্কোতে সদ্য সমাপ্ত এক জরুরি সংকট বৈঠকে এই প্রস্তাব ব্যবস্থাপনায় কিছু ভুলের জন্য ফিফা তাদের ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
তবে এর মাঝেই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে ইনফান্তিনোর উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময়ের একটি অর্থপ্রদানের অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। যদিও ফিফা ও ইনফান্তিনো নিজে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এই বিষয়ে ফিফা তাদের অফিসিয়াল বিবৃতিতে সরাসরি কড়া ভাষায় জানিয়েছে, ‘যাদের ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সমর্থন নেই, তারা ফিফার সুপ্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যা অর্জন করতে পারছেন না, তা অপপ্রচার বা ইঙ্গিতপূর্ণ বিবৃতির মাধ্যমে হাসিল করার চেষ্টা যেন না করে।’
বিবৃতিতে তারা আরও জানায়, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ফিফা ও এর সভাপতিকে জড়িয়ে ‘অপ্রমাণিত দাবি ও স্পষ্টতই মিথ্যা তথ্য’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফিফা এবং এর সভাপতি সম্পর্কে ভুল বা বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনগুলোকে ‘সরাসরি ও কঠোরভাবে’ চ্যালেঞ্জ করা হবে। ফিফা সভাপতি ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর দ্বারা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাদের ম্যান্ডেট নিয়েই তিনি সেবা করে যাচ্ছেন।
আগামী বছরের মার্চে মরক্কো ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের নির্বাচনে এই দ্বন্দ্ব এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে। যদিও ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা উয়েফা ইনফান্তিনোর ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছে এবং নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস তার পদত্যাগের দাবি তুলে বলেছেন যে, ফিফা পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।
তবুও বিশ্ব ফুটবলের বড় একটা অংশের সমর্থন এখনো ইনফান্তিনোর পক্ষেই রয়েছে। আফ্রিকার ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ), আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো ফুটবল ফেডারেশন ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে সমর্থন জানিয়েছে। কনমেবলও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ফিফার সব সদস্যের গণতান্ত্রিক ভোট ছাড়া তাকে অপসারণের যেকোনো অবৈধ প্রচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করবে।
মেসির বাবার মৃত্যু: ডি পলের গোল উৎসর্গ, বার্সার নীরবতা পালন