বগুড়ায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে রবিবার বগুড়ার মহানগরের সাতমাথায় নেচে গেয়ে ও বর্ণাঢ্য  শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে দিন পালন করে জেলা আদিবাসী ইউনিয়ন।

সংগঠনটির জেলা কমিটির সভাপতি শ্রীকান্ত মাহাতোর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক অমল মাহাতোর সঞ্চালনায় জুলাই চত্বরে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আদিবাসী ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেবেকা সরেন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বগুড়া জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড আমিনুল ফরিদ, কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও আদিবাসী ইউনিয়নের উপদেষ্টা কমরেড আসলাম খান, কমিউনিস্ট পার্টি বগুড়া জেলা কমিটি সম্পাদক মন্ডলির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম, আদিবাসী ইউনিয়ন বগুড়া জেলা কমিটির উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা হরিঙ্কর সাহা প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের আদিবাসীরা সমতল ও পাহাড়ী এলাকায় বসবাস করেন। বাংলাদেশে রয়েছে ৪৪টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী ও ৩৪টি বিভিন্ন ভাষা। আদিবাসী জনসাধারণ সাধারণভাবে খুবই দরিদ্র, অসহায়, শোষিত, অবহেলিত ও বঞ্চিত, দূর্গম অঞ্চলে তাদের বসবাস। তাদের উপর চলছে নিপীড়ন, নির্যাতন, নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ। আজ আদিবাসীরা আরও প্রান্তিক হয়ে উঠেছে। বিরাজ করছে বেকারত্ব ও চরম বৈষম্য। ভূমি ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ঐতিহ্য রক্ষায় নেই কোন রাস্ট্রীয় উদ্যোগ। রাজনৈতিক, সামাজিক, সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ চরমভাবে অনুপস্থিত।

সভায় আর্ন্তজাতিক আদিবাসী দিবসের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন সরকারের ও দেশবাসীর কাছে নিম্মোক্ত দাবীসমূহ বাস্তবায়নের আহবান জানায়। দাবিসমূহ হলো- ২০০৭ সালে গৃহীত জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকার সম্পর্কিত ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আদিবাসীদের নিজস্ব স্বার্থে সরকার কর্তৃক আইএলও ১০৭ ও ১৬৯ অনুমোদন, অনুস্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার স্বীকৃত হতে হবে এবং আদিবাসীদের ভূমি দখল ও উচ্ছেদ, গুম, খুন, দমন পীড়ন বন্ধ করতে হবে। আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা, সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, সামাজিক রীতিনীতি, আচার আচরণে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আদিবাসী সম্প্রদায় সাধারণভাবে খুবই দরিদ্র অসহায় শোষিত ও বঞ্চিত, তাদের এই শোষন ও বঞ্চনা থেকে বের করে আনতে রাষ্ট্রীয় দিকনির্দেশনা, কর্মসূচী ও বাজেট অপরিহার্য। সে লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আদিবাসী ইউনিয়নের ১৫ দফা কর্মসূচী বাস্তবায়নে নিজস্ব ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় সভা থেকে। সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে।শোভাযাত্রা শেষে সাতমাথায় ঢাক ঢোল বাজিয়ে আদিবাসীদের নিজস্ব সংস্কৃতিতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনের মধ্যদিয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন করা হয়।