বয়সভিত্তিক দলে প্রবাসীদের ভিড় বাড়ছে

জাতীয় দলের পর এবার বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলেও বাড়ছে প্রবাসী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের উপস্থিতি। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব সামনে রেখে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের ক্যাম্পে এখন রয়েছেন পাঁচজন প্রবাসী বা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার। সর্বশেষ এ তালিকায় যোগ হয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড একাডেমির সাবেক ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাস। শনিবার ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিকেলেই যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে দলের ক্যাম্পে যোগ দেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এ ফরোয়ার্ড। এর ফলে অনূর্ধ্ব-২০ দলের আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ মা ও জ্যামাইকান বাবার সন্তান অ্যাডামের নানা-নানি বাংলাদেশি। ফলে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার সামনে।

ফুটবলে তার শৈশব কেটেছে ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড একাডেমিতে। প্রায় চার বছর সেখানে থাকার পর বার্নলির অনূর্ধ্ব-১৮ দলেও খেলেছেন অ্যাডাম আব্বাস। তবে চোটের কারণে বার্নলির সঙ্গে শেষ পর্যন্ত পেশাদার চুক্তি হয়নি তার। এবার বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

অ্যাডামকে নিয়ে বর্তমানে অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে থাকা প্রবাসী ফুটবলারের সংখ্যা পাঁচ। তাদের মধ্যে ইংল্যান্ড প্রবাসী তিনজন ডিফেন্ডার জিদান ইউসুফ, স্ট্রাইকার মোহাম্মদ মাহি খান ও উইঙ্গার অ্যাডাম আব্বাস। বাকি দুজন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ঈশান মালিক ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্ট্রাইকার ফারজাদ আফতাব।

তবে শুরুতে এ ক্যাম্পে প্রবাসী ফুটবলারের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার কথা ছিল। ইতালি প্রবাসী উইঙ্গার তানজিল ও সুইজারল্যান্ড প্রবাসী উইঙ্গার সাফওয়ান চোট নিয়ে আসায় ক্যাম্পে থাকতে পারেননি। তবে কাগজপত্র তৈরি হয়নি বলে ফিরে গেছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী কালিম ইসলাম।

গত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান সুলিভান। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তার পানেনকা শটেই ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। তার সঙ্গে যমজ ভাই ডেকলান সুলিভানও খেলেছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র না পাওয়ায় এবার দুজনকেই ক্যাম্পে আনা সম্ভব হয়নি। তবে ইংল্যান্ড থেকে আরও একজন ফুটবলার এবার আসতে পারেননি।

প্রবাসীদের আসায় বয়সভিত্তিক এ দলে স্থানীয় ফুটবলারদেরও সময়টা কঠিন যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ডাক পাওয়া ৪৩ ফুটবলারের মধ্য থেকে বাছাই শেষে এখন যশোরের ক্যাম্পে রয়েছেন ২৬ জন। এখান থেকেই চূড়ান্ত ২৩ সদস্যের দল নির্বাচন করা হবে। ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ জেরার্ড জোনসের অধীনে চলছে দলের প্রস্তুতি। তার সঙ্গে রয়েছেন একজন বিদেশি ফিটনেস ট্রেনার ও একজন গোলকিপিং কোচ।

আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের তাসখন্দে অনুষ্ঠিত হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক উজবেকিস্তান, সিরিয়া ও ভারত। ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তান, ৩ সেপ্টেম্বর সিরিয়া এবং ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বয়সভিত্তিক এ দলটির প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পের প্রস্তুতি কাজে লাগিয়ে এবার এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

প্রবাসী ফুটবলারদের এই আগ্রহ বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। দেশের বাইরে বেড়ে ওঠা ও উন্নত ফুটবল কাঠামোয় প্রশিক্ষিত তরুণদের স্থানীয় প্রতিভাদের সঙ্গে মিলিয়ে একটি শক্তিশালী দল গড়াই এখন বাফুফের লক্ষ্য। সাফ শিরোপা জয়ের পর এশিয়ান পর্যায়ে আরও বড় পরীক্ষায় এ প্রবাসী ফুটবলাররা কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।