রামুতে হবে ফিফা ট্রেনিং সেন্টার

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৯ এএম

দেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সিলেট, চট্টগ্রাম ও কমলাপুর স্টেডিয়ামের মাঠ, গ্যালারি ও ড্রেসিংরুমসহ অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বাফুফের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের রামুতে ১৫ একর জমিতে ফিফার অর্থায়নে ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, মানসম্মত মাঠ ও নির্দিষ্ট স্টেডিয়াম ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ফুটবলকে আরও এগিয়ে নেওয়া কঠিন। এ কারণে সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তিনটি স্টেডিয়াম নিয়ে কাজ চলছে। তবে হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় কিছু নথিপত্রের জটিলতা থাকায় সময় লাগছে।

তিনি যোগ করেন, ‘স্টেডিয়ামের দোকান, দোকানের ভাড়া বা মালিকানার কোনো অধিকার বাফুফে পাবে না। এসব বিষয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কাছেই থাকবে। তবে স্টেডিয়ামের মাঠ, গ্যালারি, ড্রেসিংরুমসহ ক্রীড়া কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অংশগুলোর দায়িত্ব বাফুফে নিতে পারবে।’ সূত্রে জানা গেছে, আগামী পাঁচ-ছয় কর্মদিবসের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি হবে।

এদিকে কক্সবাজারের রামুতে ফিফা অনুমোদিত ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ওই জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাফুফের নামে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জমিটির মিউটেশনের জন্য বাফুফেকে এক লাখ এক টাকা দিতে হবে। জমি বাফুফের নামে হয়ে গেলে ফিফার অর্থায়নে ট্রেনিং সেন্টারের কাজ শুরু করা হবে।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় ট্রেনিং সেন্টারের জন্য ২৫ একর জমি ধরা হলেও বর্তমানে ১৫ একর জমি পাওয়া যাচ্ছে। এতে সুবিধার সংখ্যা কমতে পারে, তবে সুযোগ-সুবিধার মান বা আকারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাফুফের কর্মকর্তা। জমি পাওয়ার পর ফিফার সঙ্গে আলোচনা করে নতুন নকশা তৈরি করা হবে।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা উইন্ডো নিয়েও প্রস্তুতি চলছে। এবার দুই উইন্ডো এক করে দুই সপ্তাহের দীর্ঘ উইন্ডো করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতে পারে। দেশের মাটিতে তিন বা চার জাতির টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে দুটি দেশের সম্মতি পাওয়া গেছে। একই সময়ে

কিরগিজস্তান থেকেও ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলার আমন্ত্রণ এসেছে। বাংলাদেশ ঘরে খেলবে নাকি বিদেশে যাবে, তা শিগগিরই চূড়ান্ত হবে।

অন্যদিকে বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী ও ফকিরাপুল ইয়ংমেন্সের নিবন্ধন-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা নিয়েও সতর্ক বাফুফে। লিগ যাতে ১০ দলের নিচে নেমে না যায়, সে জন্য নির্বাসিত দুই দলকে এবার রেলিগেশন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিসিএল থেকে তিনটি দলকে প্রমোশনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ ১৩ দল নিয়ে আগামী মৌসুমের লিগ আয়োজনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাফুফের দাবি, ক্লাবগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তারা ফিফার সঙ্গে আলোচনা ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছে। তবে পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ফিফার অবস্থান কঠোর। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করিয়ে ক্লাবগুলোকে খেলায় ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত