মহাস্থানগড়ে নির্মাণকাজের ওপর আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দিয়েছে আদালত। গতকাল রবিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১০ সালে মহাস্থানগড়ের সীমানায় স্থাপনা নির্মাণ, মাজার সম্প্রসারণসহ ও উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে ওই বছর মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট মহাস্থানগড়ের প্রতœতাত্ত্বিক এলাকায় বেআইনি দখল প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও মহাস্থানগড়ের সীমানার মধ্যে যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন।

আইনজীবী আরও জানান, ২০২০ সালে মহাস্থানগড়ে প্রতœতাত্ত্বিক এলাকায় বেদখল নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ওই বছর একটি সম্পূরক আবেদন করে এইচআরপিবি। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৫ মার্চ মহাস্থানগড় প্রতœতাত্ত্বিক এলাকায় স্থানীয়দের মাটি খনন ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। রিটকারী আইনজীবী বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করলে বিলম্ব মার্জনা করে আপিলের অনুমতি দিয়েছে আপিল বিভাগ।

তিনি বলেন, মহাস্থানগড় এলাকায় আবারও রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু করলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই কাজ বন্ধ করা হয়। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের হয়। তবে, এ আপিলের বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর কিছুদিন আগে তাদের আপত্তি জানিয়ে সলিসিটার অফিসকে চিঠি দিয়েছেন এবং এ বিষয়টি গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।