আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফার ওপর সঠিক হারে উৎসে কর কর্তন এবং নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তন এবং কর্তন করা কর নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ব্যাংকগুলো আইনানুগ হারে উৎসে কর কর্তন না করায় পরবর্তী সময়ে কর সমন্বয় ও নিরীক্ষা কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে সঠিকভাবে কর কর্তন না করায় সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১০২ ধারা অনুযায়ী গ্রাহকের সঞ্চয়ী আমানত, স্থায়ী আমানত, মেয়াদি আমানত বা অন্য কোনো আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফার ওপর গ্রাহকের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে উৎসে কর কাটতে হবে।
এ ছাড়া আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪২ ধারা অনুযায়ী, করদাতা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ বা পিএসআর (প্রুফ অব সাবমিশন অব রিটার্ন) উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে প্রযোজ্য হারের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি হারে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করতে হবে।
কর্তন করা কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সময়সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী, অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসে কোনো কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হলে সংশ্লিষ্ট মাস শেষ হওয়ার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
জুন মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হলে কর্তনের পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। আর জুন মাসের ২১ তারিখ থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হলে পরবর্তী দিনই সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ব্যাংক কর্তৃক কর্তন করা উৎসে কর নির্ধারিত সময়ের বেশি কোনোভাবেই জেনারেল লেজার বা অন্য কোনো হিসাবে রাখা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার পাশাপাশি উৎসে কর কর্তনের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় বিবরণী ও চালানের কপিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া উৎসে কর কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়কর আইন, ২০২৩ এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সার্কুলার জারি করেছে।