বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ পরিশোধে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী টিউশন ফি, ভর্তি ও নিবন্ধনসহ শিক্ষা-সংক্রান্ত খরচ পরিশোধে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো শিক্ষার্থী বা তার শিক্ষা ব্যয় বহনকারী ব্যক্তির নামে আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু করতে পারবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করে, সেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত সার্কুলার নম্বর ৩৭-এর পার্ট-সি-এর অনুচ্ছেদ ২৯ অনুযায়ী বিদেশে নিয়মিত কোর্সে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। এর আওতায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ভাষা কোর্স এবং স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পেশাগত ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স রয়েছে।
তবে কিছু বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে টিউশন ফি ও অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধের শর্ত দেয়। এ ধরনের বৈধ লেনদেন সহজ করতে নতুন এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষা-সংক্রান্ত অর্থ পরিশোধের জন্য ডেবিট, প্রিপেইড অথবা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব নীতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার মধ্যে ক্রেডিট সীমা নির্ধারণ করতে হবে।
কার্ডটি শিক্ষার্থীর নিজের নামে অথবা তার শিক্ষা ব্যয় বহনকারী ব্যক্তির নামে ইস্যু করা যাবে। তবে কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রা জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রয়োজনীয় সব নিয়ন্ত্রক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের পরিচিতি যাচাই (কেওয়াইসি), অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, কার্ডে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জমা করা হবে, লেনদেন তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। অর্থ কেবল অনুমোদিত বা যথাযথ প্রাপকের কাছেই পরিশোধ করা যাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক যে সময়সীমা নির্ধারণ করবে, তার মধ্যেই লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে। কার্ডটি শুধু শিক্ষা-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে।
এডি ব্যাংকগুলোকে এসব লেনদেনের যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ এবং কার্ডের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও লেনদেনের প্রমাণাদি সরবরাহ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষা-সংক্রান্ত সব লেনদেন উপযুক্ত উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কোড ব্যবহার করে টিএম মডিউলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে।
তবে নতুন এ সুবিধার আওতায় নেওয়া বৈদেশিক মুদ্রা শিক্ষার্থীদের ভ্রমণ কোটার অংশ হিসেবে গণ্য হবে না। অর্থাৎ বিদেশে পড়াশোনার খরচের জন্য আন্তর্জাতিক কার্ডে নেওয়া বৈদেশিক মুদ্রা ভ্রমণ বা অন্য কোনো বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুবিধা থেকে আলাদা হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিদেশে পড়াশোনার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের বিষয়ে আগে জারি করা অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
