রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘এসডিজি অর্জনে ৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো : নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলন। গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। প্রথম দিনের ‘এসডিজি স্থানীয়করণ ও এসডিজি গ্রাম পাইলটিং কর্মসূচি’ অধিবেশনে মিতিঙ্গাছড়ি, পানখালী ও নাফানগরের সঙ্গে চরাঞ্চলের একটি গ্রাম যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিহউল্লাহ। অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।
এ অধিবেশনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার অর্জনের সমস্যা, সম্ভাবনা, অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করা হয়। এ সময় জিইডি সদস্য ড. মনজুর হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুল আউয়াল, সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাদিক রিয়াজ নির্ধারিত বিষয়ে বক্তব্য দেন। এতে চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রাহণ করেন।
ইসমাইল জবিহউল্লাহ বলেন, তিনটি গ্রামকে মডেল হিসেবে নিয়ে সেখানে এসডিজির লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব গ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যাবে, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর। সফল হলে পরবর্তী সময়ে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। কারণ পুরো জাতিকে নিয়ে পরীক্ষা করা যায় না। তিনটি বা চারটি গ্রামে কাজ করে যদি দেখা যায় যে, এটি ভালোভাবে কাজ করছে, তাহলে সেটিকে সারা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এসব গ্রাম হবে পরীক্ষাগারের মতো।’
সুবিধাবঞ্চিত চরাঞ্চল থেকেও একটি গ্রামকে পাইলট কর্মসূচির আওতায় নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও উন্নয়ন চাহিদা আলাদা হওয়ায় সেখানে এসডিজি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনটি গ্রামের সঙ্গে চরাঞ্চলের একটি গ্রাম যুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, আমরা খুব কম সময়ের মধ্যেই সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন করেছি। কারণ, এ ধরনের লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা আমাদের আগে থেকেই ছিল। এখন আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছি। বর্তমান এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাগুলোর সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অনেক বিষয় মিলে যায়। তাহলে কি বলা যায়, বিএনপি এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাগুলো থেকে বিষয়গুলো নিয়েছে? আসলে তা নয়। প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০, এমডিজি, বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত ছিলাম। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির সময় এসডিজিকে সামনে রাখা হয়নি। বরং জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচনা করে বিভিন্ন দফা ও নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। পরে দেখা গেছে, এসব বিষয়ের অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে এসডিজির বিভিন্ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। সরকারের পাশাপাশি এনজিও, স্থানীয় সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও মাঠ প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকতে হবে। এ সময় তারা বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদসহ মাঠ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।