৫৭ বছর বয়সে ফিওরেন্তিনায় ফিরছেন বাতিগোল 

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক আবেগময় ও নস্টালজিয়ায় মোড়ানো মুহূর্ত উপহার দিতে যাচ্ছে ইতালিয়ান ক্লাব ফিওরেন্তিনা। শতবর্ষ পূর্তি উৎসবের অংশ হিসেবে ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলদাতা গ্যাব্রিয়েল ওমর বাতিস্তুতা আবারও মাঠে নামছেন।

আগামী ২ সেপ্টেম্বর আর্তেমিও ফ্রাঙ্কি স্টেডিয়ামে ফিওরেন্তিনা অল স্টার্স এবং ওপেরাসিওনে নস্টালজিয়া লেজেন্ডসের মধ্যকার এই বিশেষ প্রদর্শনী ম্যাচে নামবেন ৫৭ বছর বয়সি এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। একসময়ের মাঠ কাঁপানো সেই ‘বাতিগোল’কে আবার নিজের চেনা জার্সিতে দেখার অপেক্ষায় মুখিয়ে আছেন হাজারো সমর্থক।

সোমবার ফিওরেন্তিনার অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় এই কিংবদন্তির ফেরার খবর নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, ‘আবারও। বাতিস্তুতা। ফ্লোরেন্স। ফ্রাঙ্কি। গ্যাব্রিয়েল ওমর বাতিসুতা ফিরে আসছেন সেই জায়গায়, যেখানে তিনি রূপকথা লিখেছিলেন।’ 

এদিকে এক ভিডিও বার্তায় ভক্তদের উদ্দেশে বাতিস্তুতা নিজেই সরাসরি বলেছেন, ‘সবাই কেমন আছেন? আগামী ২ সেপ্টেম্বর ফ্রাঙ্কিতে দেখা হচ্ছে। কেউ মিস করবেন না! চলুন সবাই মিলে ফিওরেন্টিনার শতবর্ষ উদযাপন করি। সবাইকে অনেক ভালোবাসা, আমি এখন থেকেই দিন গুনছি। সেখানে দেখা হবে!’

ফ্লোরেন্সের ক্লাবটির হয়ে ১৯৯১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত নয়টি দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন বাতিস্তুতা। ২০৭ গোল করে তিনি ক্লাবটির সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতার রেকর্ডও গড়েছেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে কোপা ইতালিয়া এবং ১৯৯৬ সালের সুপারকোপ্পা ইতালিয়ানা জয়ে তার ভূমিকা ছিল অনবদ্য। এছাড়া ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে ক্লাবটিকে সিরি আ-তে ফিরিয়ে আনতে তার অবদান ছিল অবিস্মরণীয়।

ফিওরেন্তিনার পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলেও রেখেছেন অমলিন স্বাক্ষর। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ১৯৯১ সালে চিলি ও ১৯৯৩ সালে ইকুয়েডরে জেতেন দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা। ৭৮ ম্যাচে ৫৪ গোল করে দীর্ঘদিন আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি, যা পরবর্তীতে ভেঙে দেন লিওনেল মেসি।

এর আগে ২০১৫ সালে জুসেপ্পে রসি’র বিদায়ী ম্যাচেও অনুরূপ একটি ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি স্ট্রাইকার। সে সময় ৫৬ বছর বয়সে মাঠে নেমে গোল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি, যা প্রমাণ করেছিল যে সময়ের স্রোত বয়ে গেলেও পেনাল্টি বাক্সে তার সহজাত গোল করার সহজাত প্রবৃত্তি বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি।

তবে বাতিস্তুতার এই রাজসিক ক্যারিয়ারের পেছনের শারীরিক মূল্য ছিল বড্ড ভয়ানক। খেলা ছাড়ার পর গোড়ালির মারাত্মক ইনজুরি তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। অতীতে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই কষ্টের কথা জানিয়ে বাতিস্তুতা সরাসরি বলেছিলেন, ‘আমি ফুটবল ছেড়ে দিলাম এবং এর পরের দিন থেকেই আর হাঁটতে পারলাম না। এক মাস বা দুই দিন পর নয়, ঠিক দুদিন পরেই আমার পক্ষে হাঁটা সম্ভব ছিল না। বাথরুম মাত্র তিন মিটার দূরে থাকা সত্ত্বেও বিছানা ভিজে যেত, কারণ আমি উঠতে চাইতাম না।’

গোড়ালিতে কোনো কার্টিলেজ না থাকায় হাড়ের ঘর্ষণে তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে হতো তাকে। এই দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ২০১৯ সালে সুইজারল্যান্ডে অস্ত্রোপচার করিয়ে বাঁ গোড়ালিতে প্রোসথিসিস বা কৃত্রিম জোড় লাগান তিনি। দীর্ঘ সেই শারীরিক লড়াই ও চোটের অন্ধকার পেরিয়ে শতবর্ষের এই বিশেষ ম্যাচে ফের বুটজোড়া পায়ে মাঠে নামছেন বাতিস্তুতা, যা ভক্তদের জন্য এক ঐতিহাসিক উদযাপনের উপলক্ষ হয়ে থাকবে।