ভোটাধিকার ফিরে পেতে মরিয়া

প্রকাশ রাজের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে সরব অভিনেতা ভারতীয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ। তার দাবি, রাজ্যে চলা এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়ার পর বেঙ্গালুরুর ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা। 

প্রকাশের দাবি, এসআইআর-এর পর ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ গেছে, তিনি তাদেরই একজন। তার বক্তব্য, ভোটাধিকার ফিরে পেতে হলে এখন তাকে কী ধরনের নথি জমা দিতে হবে, সেটিই বুঝতে পারছেন না। প্রশাসনের উদ্দেশে তার প্রশ্ন, নাম ফেরানোর জন্য তাকে ঠিক কী কী প্রমাণপত্র দেখাতে হবে? 

প্রকাশ রাজের বক্তব্যের সুর ছিল যথেষ্ট তীব্র। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো নাগরিকের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা কারও থাকতে পারে কি না। তার মতে, কোনো নাগরিক কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থন না করলেও তার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। বরং নাগরিকদেরই নিজেদের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন করার অধিকার রয়েছে। 

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়েছিলেন প্রকাশ রাজ। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এবার তার নিজের ভোটার পরিচয় নিয়ে কী প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, সেটিও তিনি দেখবেন। অর্থাৎ, ভোটার তালিকায় নিজের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়েই এখন তার নজর। 

প্রকাশ রাজের এই বক্তব্য অবশ্য তার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা। এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে প্রকাশ্যে নিজের মত জানিয়েছেন তিনি। ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠলে তারও প্রতিবাদ করেছিলেন অভিনেতা। রাঁচিতে বিধানসভা অভিমুখে ছাত্রদের মিছিলের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। 

এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা প্রতিবাদেও দেখা গিয়েছিল প্রকাশ রাজকে। সেখানে পড়ুয়াদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অভিনেতা। এদিকে কর্ণাটকে এসআইআর-এর সময়সূচি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা পিছিয়ে ২৪ অগস্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ধার্য হয়েছে ২৭ অক্টোবর। নির্বাচন কমিশনের ৭ অগস্টের নির্দেশের পর এই পরিবর্তিত সূচি তৈরি হয়েছে। তবে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার তারিখ ১ অক্টোবর, ২০২৬ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে প্রকাশ রাজের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিনেতার মূল প্রশ্ন একটাই—ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে একজন নাগরিক তার ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য ঠিক কোন পথে এগোবেন?