শিশু খুব অনুকরণপ্রিয়

শিশুর শারীরিক মানসিক নৈতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ কতটা সমৃদ্ধ হবে, অনেকটা নির্ভর করে মা-বাবা কীভাবে লালন করছেন তার ওপর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা না জেনে শিশুর সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করেন, যা সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিশুর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা যায়, আর কী আচরণ করা যায় না জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। লিখেছেন শ্যামল আতিক

অ্যাকাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিশুকে নৈতিক শিক্ষা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। মিথ্যা বলা, চুরি করা, কটু কথা বলা, কাউকে আঘাত করা ইত্যাদি কাজ যে অন্যায় তা শিশুকে বারবার বলুন। হাসিমুখে কথা বলা, বড়দের সম্মান করা, ধর্মীয় উপাসনালয়ে চুপ থাকা, গণপরিবহনে আস্তে কথা বলা, পা ছেঁচড়িয়ে না হাঁটা, অন্যকে কষ্ট না দেওয়া ইত্যাদি শিষ্টাচারগুলো অভিভাবক হিসেবে আপনি নিজে পালন করবেন। শিশুকেও পালন করতে উদ্বুদ্ধ করবেন।

আপনি নিজে যদি অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন, আরেকজনের কথা মাঝখানে কথা না বলেন, তাহলে শিশুর মধ্যেও এই গুণ সঞ্চারিত হবে। শিশুকে মিথ্যা আশ্বাস দেবেন না। যদি আশ্বাস দেন, তাহলে অবশ্যই পূরণ করবেন। তা না হলে, শিশু আপনার প্রতি সম্মান ও আস্থা হারাতে পারে।

কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আগে শিশুর সম্মতি নেওয়া জরুরি। শিশুকে জানাতে হবে সে কোথায় যাচ্ছে, ভবিষ্যতের কর্মসূচি কী হতে যাচ্ছে।

কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আশ্বাস দিলে অবশ্যই সেখানে নিয়ে যাবেন। একটি বিশেষ জায়গার আশ্বাস দিয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে যাবেন না। শিশুকে সবসময় প্রাচুর্যের মধ্যে না রেখে মাঝে মাঝে অভাব ও কষ্ট অনুভব করার সুযোগ দিন। যে শিশুরা কোনো কিছু চাওয়া মাত্র পেয়ে যায়, তারা অন্য শিশুদের তুলনায় কম সুখী হয়। তারা মনে করে সবকিছুই তাদের প্রাপ্য।

শিশুর সব আবদার পূরণ করবেন না। যদি করেন তাহলে যত দিন যাবে তার চাহিদার তালিকা বাড়তেই থাকবেন। একটা সময় আসবে এজন্য আপনাকে দুঃখ পেতে হবে। প্রতিদিন কাজ শেষে ঘরে ফেরার সময় শিশুর জন্য উপহার নিয়ে যাবেন না। এতে করে শিশুর মধ্যে এক ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়ে যায়। একদিন না পেলেই সে অস্থির হয়ে উঠতে পারে। মাঝে মধ্যে দিতে পারেন, তবে সব সময় নয়। অফিসে যাওয়ার সময় অবশ্যই শিশুর সামনে দিয়ে বের হবেন। এমনকি শিশু কান্নাকাটি করলেও। শিশু যেন মনে না করে, আপনি তাকে ফাঁকি দিয়ে বের হয়ে গেছেন।

গত সপ্তাহে শিশু কী কী ভালো কাজ করেছে, তা তাকে বলতে বলুন। এর মাধ্যমে শিশুর ভালো গুণগুলো বিকশিত হয়। শিশুকে মহামানবদের গল্প বলুন। তাদের জীবনী পড়তে দিন। এতে শিশুর মধ্যেও মানবিকতা জাগ্রত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আপনি নিজে যা পালন করেন না, সেই উপদেশ শিশুকে দেবেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের উপদেশ শিশু আমলে নেয় না। সালাম, ধন্যবাদ, ও দুঃখিত- সৌজন্যমূলক এই সম্বোধনগুলো শিশুকে চর্চা করতে শেখান। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এমন চর্চা সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিশু যখন কারও সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করে, তাকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেবেন। আবার কারও সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করলে তাকে বলুন, খারাপ মানুষের মধ্যেও ভালো গুণ থাকে। সন্তানকে সব সময় মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে শেখাবেন। সে যেন বাড়াবাড়ি বা সীমালঙ্ঘন না করে- হোক সেটা ভালো অথবা মন্দ। এটা ধর্মেরও শিক্ষা। নিপীড়ক বা জালিমদের শেষ পরিণতি যে খুব খারাপ হয়, ইতিহাসের উদাহরণ থেকে এই শিক্ষা দিন। কেন তাদের করুণ পরিণতি হলো, তা শিশুকে জানান।