অর্থাভাবে থমকে আছে বাংলাদেশের প্রস্তুতি

এশিয়ান গেমসের বাকি আর মাত্র এক মাস। কিন্তু বাংলাদেশের প্রস্তুতির চিত্রে নেই কাক্সিক্ষত গতি। কোনো ফেডারেশন নিজস্ব অর্থে ক্যাম্প চালাচ্ছে, কোনো ডিসিপ্লিনে এখনো অনুশীলনই শুরু হয়নি। আবার অর্থ সংকটে কোথাও অনুশীলন চলছে ঢিমেতালে। এমন পরিস্থিতিতে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমস সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

এশিয়ান গেমসের ৪৩ ডিসিপ্লিনের মধ্যে এবার ২২টিতে অংশ নেবে বাংলাদেশ। এগুলো হলো ক্রিকেট, ফুটবল, আরচারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, সাইক্লিং, ফেন্সিং, হকি, কাবাডি, কারাতে, টেবিল টেনিস, সুইমিং, সার্ফিং, শুটিং, ভারোত্তোলন, কুস্তি, উশু, গলফ, জিমন্যাস্টিকস, জুডো ও বিচ ভলিবল। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস। হাতে সময় খুব কম হলেও গেমসকে সামনে রেখে প্রস্তুতিতে নেই কাক্সিক্ষত তৎপরতা। অর্থসংকটই এর প্রধান কারণ বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) দেশের ২২টি ডিসিপ্লিনের অনুশীলন কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারক করছে। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে আগের পাওনা অর্থ না পাওয়ায় ফেডারেশনগুলোর অনুশীলন ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে পারছে না বিওএ। ফলে একদিকে ক্যাম্প শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে, অন্যদিকে কোথাও ক্যাম্প শুরু হলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক দেওয়ান সজলের কথা, ‘অলিম্পিক আমাদের কিছু বলেনি। তাই আমরা অনুশীলনও শুরু করতে পারিনি। এখনো আমরা তাদের প্রত্যাশায় রয়েছি। আগামীকাল (আজ) তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পেলে দুয়েক দিনের মধ্যে আমরা নিজেদের অর্থায়নে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করব।’ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন বলেন, ‘আবাসন ও অর্থসংকটে আমরা এখনো অনুশীলন শুরু করতে পারিনি।’ সাইক্লিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হাসানের কথা, ‘আমরা আগেই অনুশীলন শুরু করেছি। কিন্তু আর্থিক সমস্যা রয়েছে। বিওএর দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু এখানো কোনো সহায়তা পাইনি।’ বিওএ সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিলে চীনের সানায়াতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান বিচ গেমসের জন্য প্রায় দুই কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং সদ্য গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসের জন্য প্রায় তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা সরকারের কাছে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো সেই অর্থ পাওয়া যায়নি। ফলে পুরনো পাওনা মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে দেশের অলিম্পিক ক্রীড়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এর মধ্যেই সামনে চলে এসেছে এশিয়ান গেমসের বিশাল ব্যয়ের বিষয়টি। এবার ২২টি ডিসিপ্লিনে প্রায় ৩০০ ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা বাংলাদেশ দলের সঙ্গে জাপানে যাবেন। তাদের বিমান ভাড়া, থাকা-খাওয়া এবং এশিয়ান গেমস ভিলেজে থাকার খরচসহ বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হবে। এসব ব্যয় মেটাতে এশিয়ান গেমসের জন্য সরকারের কাছে প্রায় ২৪ কোটি টাকা চেয়েছে বিওএ। তবে সেই অর্থও এখনো ছাড় না হওয়ায় প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। হাতে যখন মাত্র এক মাসের মতো সময়, তখন অর্থের অভাবে অনুশীলনের গতি কমে যাওয়া বাংলাদেশের ভালো ফলের সম্ভাবনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিওএর মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, ‘আমরা সরকারের অর্থ চেয়েছি গেমসের জন্য। সেই অর্থ ছাড় পেলে ফেডারেশনগুলোর অনুশীলন ক্যাম্পে দিতে পারব।’

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, কোনো কোনো ফেডারেশন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ক্রীড়াবিদদের ক্যাম্প চালিয়ে যাচ্ছে। আবার কোনো ফেডারেশনের অনুশীলন কার্যক্রম এখনো শুরুই হয়নি। কোথাও আবার অর্থের অভাবে নিয়মিত অনুশীলন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একই গেমসে অংশ নিলেও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ডিসিপ্লিনভেদে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বৈষম্য।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির পাশাপাশি শেষ মুহূর্তের নিবিড় অনুশীলন অত্যন্ত গুররুত্বপূর্ণ। কিন্তু অর্থসংকটের কারণে সেই প্রস্তুতিতেই ধাক্কা লাগায় চিন্তিত সংশ্লিষ্টরা।