বসুন্ধরার মাঠে ফর্টিজের উৎসব

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৫ এএম

বসুন্ধরা কিংসের মাঠে উৎসব করল ফর্টিজ। পা ওমর বাবু, রাসেল, ইব্রাহিম, অনন্ত তামাংরা একে অন্যকে জড়িয়ে আনন্দে মেতে উঠেন। এই উল্লাস ইতিহাস গড়ার। প্রথমবার এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলেই প্রথম পর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ফর্টিজ। মঙ্গলবার কিংস অ্যারেনায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি পর্বে কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারায় ফর্টিজ। বাংলাদেশের ক্লাবটির হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন মো. ইব্রাহীম। এর আগে একই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে খেলা বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনীও মূল পর্বে খেলেছিল। তবে ফর্টিজের জন্য এবারের অর্জন বিশেষ। কারণ এটাই তাদের প্রথমবারের মতো এএফসি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ।

 ২০২৫-২৬ মৌসুমে ঘরোয়া লিগে চ্যাম্পিয়ন হয় বসুন্ধরা কিংস, রানার্সআপ ঢাকা আবাহনী। দুই ক্লাবের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় এএফসি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পায় তৃতীয় হওয়া ফর্টিজ ও চতুর্থ স্থানে থাকা বাংলাদেশ পুলিশ এফসি। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে প্রথম পরীক্ষাতেই বাজিমাত করল ফর্টিজ।

শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টাআক্রমণে খেলতে থাকে। ২২ মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ফর্টিজ। একক প্রচেষ্টায় বক্সের বাঁ দিক দিয়ে উঠে মুরাসের গোলরক্ষক ওরেস্ট কস্তিককে একা পেয়ে যান পা ওমর বাবু। বাঁ পায়ের শটে কস্তিককে পরাস্ত করলেও ফর্টিজের সেই প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অল্পের জন্য গোলবঞ্চিত হন স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মুরাস। একের পর এক আক্রমণে ফর্টিসের রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও গোলরক্ষক সুজন পেরেরার দৃঢ়তায় স্বস্তিপান স্বাগতিকরা। দুই দফায় দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন শ্রীলঙ্কান এ গোলরক্ষক। এরপর ৫২ মিনিটে অনেকটা ধারার বিপরীতেই গোল পেয়ে যায় ফর্টিজ। মাঝমাঠ থেকে ওমর বাবুর বাড়ানো থ্রু পাস পেয়ে যান ইব্রাহীম। ডান পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের গড়ানো শটে মুরাস গোলরক্ষক কস্তিককে পরাস্ত করেন তিনি। বল কস্তিকের শরীরের নিচ দিয়ে গড়িয়ে জালে জড়ালে উল্লাসে ফেটে পড়ে কিংস অ্যারেনা (১-০) ।

গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে মুরাস। ৫৬ মিনিটে ফর্টিজ ব্যবধান দ্বিগুণ করার খুব কাছে চলে যায়। ওমর বাবুর নেওয়া কর্নার বাঁক খেয়ে পোস্টে ঢোকার ঠিক আগমুহূর্তে গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন কস্তিক। ফিরতি বলে অনন্ত তামাং কাটব্যাক করলে এরিক বিস্তার নেওয়া বাঁকানো শটও ডানদিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন মুরাস গোলরক্ষক।

ম্যাচের ৭৪ মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় মুরাস। মাদানভ ইসমইলোভিচের শট বক্সের ভেতরে এরিক বিস্তার হাতে লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি কিরগিজ ক্লাবটি। আতাবায়েভ এরবলের নেওয়া ডান পায়ের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মুরাস আক্রমণ চালালেও ফর্টিজের রক্ষণ আর গোলরক্ষক সুজন পেরেরা নিজেদের দুর্গ অক্ষত রাখেন। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১-০ গোলের জয় নিশ্চিত করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায় ফর্টিজ এফসি। ম্যাচশেষে জয়ের নায়ক ইব্রাহীম বলেছেন, ‘আমার মাথায় এটা ছিল না যে ফর্টিজের হয়ে খেলছি। মনে হয়েছে, দেশের জন্য খেলছি। এখানে দেশটাই বড়। দেশের হয়ে অবদান রেখে গোল করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।’

এদিন ম্যাচের ৫২ মিনিটে পা ওমর বাবু অনেকটা এগিয়ে থ্রু বাড়ান ইব্রাহীমকে। ডান পায়ে আলতো ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের গড়ানো শটে জাল কাঁপান ইব্রাহীম। এই গোল নিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচে এর আগেও গোল করেছি। এটি সেরা গোল নয়, তবে এই ম্যাচ ও মুহূর্তটির গুরুত্ব আমার কাছে অনেক বেশি। কোচ আমাকে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে বলেছিলেন। আমি সেই বিশ্বাস রেখেই নিজের সেরাটা উজাড় করে খেলেছি।’ ফর্টিজের কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার বলেন, ‘আমি আমার প্লেয়ারদের এটা বলেই উদ্বুদ্ধ করেছি যে আপনাদের কথাতে একটা জিনিস আসছে এটি একটি চান্স। অনেক কিছু হচ্ছে ফুটবলকে উন্মাদনার জন্য, আর একটা কিছু করতে হবে। সো আমি প্লেয়ারদের বলছি, দিস ইজ দ্য রিয়েল চান্স টু গেট সামথিং। ছেলেরা তাই করে দেখিয়েছে।’ গত মৌসুমে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে বাংলাদেশের আরেক ক্লাব ঢাকা আবাহনীর মুখোমুখি হয়েছিল মুরাস ইউনাইটেড। সেবার পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনীকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের ধাপে উঠেছিল কিরগিজ ক্লাবটি। এবার বাংলাদেশের মাটিতে এসে সেই মুরাসকেই হারিয়ে স্বদেশি আবাহনীর হারের প্রতিশোধের স্বাদ নিল ফর্টিজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত