'বাবা, তোমাকে ছাড়া আর খেলা সম্ভব কি না জানিনা', মেসির আবেগঘন বার্তা

প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসিকে স্মরণে এক আবেগঘন এবং স্পর্শকাতর বার্তা শেয়ার করেছেন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। বাবাকে হারানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ পোস্টে মেসি তুলে ধরেছেন তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারে বাবার অনবদ্য অবদান, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ চলাকালীন বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে নিজের মানসিক লড়াই এবং বাবাকে ছাড়া ফুটবল ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়া নিয়ে তাঁর তীব্র অনিশ্চয়তার কথা।
 
৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তী ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লিখেছেন, 

"বাবা, আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে তুমি নেই। মনে হচ্ছে কোনো দুঃস্বপ্ন, আমি এটা বিশ্বাসই করতে চাই না। তোমাকে আর দেখতে পাব না, তোমার সাথে কথা হবে না—ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। আমি জানি তুমি কষ্টে ছিলে এবং চলে যাওয়াটাই হয়তো তোমার শান্তির ছিল, কিন্তু তুমি বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের একসাথে আরও অনেক কিছু উপভোগ করার বাকি ছিল।"

নিজের ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা নিয়ে মেসি যোগ করেন, "তোমাকে ছাড়া আমি কী করব, জানি না। কীভাবে সামনে এগোব, তা-ও বুঝতে পারছি না। আমি কেবল ফুটবলটাই খেলতাম, আর এখন তোমাকে ছাড়া সেই ফুটবলটা আর কতদিন চালিয়ে যেতে পারব, তা নিয়ে আমার মনে গভীর সন্দেহ আছে। একদম শুরু থেকেই তুমি আমার পাশে ছিলে, পথচলার শেষটা তো আর খুব দূরে ছিল না! আর কিছুটা সময় কেন তুমি ধৈর্য ধরে সাথে থাকলে না? কেন আমরা একসাথে শেষটা করতে পারলাম না?"
 
বিশ্বকাপের সময় বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নিজের ভেতরের মানসিক কষ্টের কথা বলতে গিয়ে মেসি লিখেছেন:

"তুমিই আমাকে গত বিশ্বকাপে খেলার জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছিলে। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর কিছুদিন আগেই তোমার অবস্থা সবচেয়ে খারাপের দিকে যায়। এই প্রথম কোনো টুর্নামেন্টে তুমি আমার পাশে ছিলে না। মা আমাকে বলেছিলেন তুমি সুস্থ হয়ে যাবে এবং ভ্রমণের মতো ফিট হবে। আমি তোমাকে কথা দিয়েছিলাম, আমরা ফাইনালে উঠব যেন তুমি এসে দেখতে পারো। প্রতিটি ম্যাচ শেষে আমি তোমার মেসেজের অপেক্ষায় থাকতাম, কিন্তু মেসেজ আসত না—তখনই বুঝতে পেরেছিলাম অবস্থা আসলেই মারাত্মক। তারপরও আমি চেষ্টা করেছি শেষ পর্যন্ত যাওয়ার, যেন তোমাকে একটা ম্যাচ দেখার সুযোগ দিতে পারি। আমরা ফাইনালে উঠলাম, কিন্তু তুমি আসতে পারলে না। আমি জিততে চেয়েছিলাম যেন তোমার হাতে কাপটি এনে তুলে দিতে পারি। কিন্তু আমি পারিনি; শরীর আর সাই দিচ্ছিল না।"

মেসি আরও বলেন, বিশ্বকাপ শেষে বাড়ি ফিরে দেখেন তাঁর বাবা ভেবেছিলেন আর্জেন্টিনা ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে গেছে। বাবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেই মুহূর্তগুলোও তাঁরা উপভোগ করতে পারেননি।
 
ছোটবেলা থেকে শেষ দিন পর্যন্ত বাবা কীভাবে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে ছায়ার মতো ছিলেন, তা স্মরণ করে আবেগপ্লুত হন মেসি:

"ছোটবেলা থেকেই তুমি কাজ থেকে ফিরেই আমাকে অনুশীলনে নিয়ে যেতে। কাজের কারণে তুমি না পারলে মা নিয়ে যেতেন। তুমি আমার একটি ম্যাচও মিস করোনি। ম্যাচ দেখার সময় তুমি কতটা যে কষ্ট পেতে আর উপভোগ করতে! মুখে কখনোই খুব বেশি প্রশংসা করতে না। কিন্তু তুমি একাধারে ছিলে আমার বাবা, বন্ধু এবং এজেন্ট। যখন যার ভূমিকা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তুমি ঠিক সেটাই হতে এবং কখনোই ভুল করতে না। টুকটাক তর্ক বা অভিযোগের ঊর্ধ্বে গিয়ে দিনের শেষে তোমার কথাই সত্যি হতো।"

বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা ব্যক্ত করে পোস্টটি শেষ করেন এই মহাতারকা, "তোমাকে খুব মিস করব, বাবা। তবে আমার সন্তানদের বেড়ে ওঠার মধ্যে তুমি সবসময় বেঁচে থাকবে, কারণ তুমি যেভাবে আমাকে বড় করেছ, আমিও ওদের সেভাবেই গড়ে তুলছি। ওখান থেকে আমাদের ওপর নজর রেখো। সবকিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।"