আগামী ১৭ আগস্ট থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র বার্ষিক উলচি ফ্রিডম শিল্ড সামরিক মহড়া আয়োজনের পরিকল্পনা ঘোষণার পর জাপান সাগর অভিমুখে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। গতকাল বুধবার ভোরে দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে পিয়ংইয়ংয়ের এটি দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ সাংবাদিকদের দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ওনসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে পিয়ংইয়ং এর নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে।
সিউল জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। তারা আরও জানায়, নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং এই উৎক্ষেপণের বিষয়ে ওয়াশিংটন ও টোকিওর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য বিনিময় করা হচ্ছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যমে বলেছে, সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘ইতিমধ্যেই ভূপাতিত হয়েছে’। তবে তারা এর বেশি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার মূল্যায়ন অনুযায়ী, গতকালের এই উৎক্ষেপণ ছিল ২০২৬ সালে পিয়ংইয়ংয়ের সন্দেহভাজন ১১তম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যমতে, গত ৬ আগস্ট একই এলাকা থেকে উত্তর কোরিয়া আরও একটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। জুনের শেষের দিক থেকে হিসাব করলে সেটি ছিল তাদের প্রথম ব্যালিস্টিক অস্ত্র পরীক্ষা। তবে পিয়ংইয়ং উল্লিখিত এই উৎক্ষেপণের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর কোরিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ লিম ইউল-চুল এএফপিকে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে উত্তর কোরিয়া কখনোই চুপ থাকেনি। এর মাধ্যমে মূলত এই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে যেÑ পিয়ংইয়ং আসন্ন মহড়াগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন মনে করলে উসকানিমূলক কোনো পদক্ষেপও নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া মহড়া : উলচি ফ্রিডম শিল্ড নামক মহড়াটি গত সোমবার শুরু হয়ে টানা ১১ দিন ধরে চলবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, মহড়ার পরিসর বিগত বছরগুলোর মতোই হবে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার ১৮ হাজার সেনাসদস্য অংশ নেবে। বিগত বছরগুলোয় উত্তর কোরিয়া এই মহড়াকে আগ্রাসনের পূর্বপ্রস্তুতি আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছিল। এর জবাবে তারা অস্ত্র পরীক্ষা ও কড়া ভাষা ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। তবে সিউল ও ওয়াশিংটন বারবার দাবি করে আসছে, তাদের এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক।
এদিকে, টোকিওর প্রতিরক্ষা নীতির সমালোচনা ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছে পিয়ংইয়ং; এই বিষয়ে জুলাই থেকে এ পর্যন্ত তারা অন্তত সাতবার বিবৃতি জারি করেছে। গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জাপানের সর্বশেষ প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রকে ‘পুনরায় আগ্রাসনের মানসিকতার’ দলিল হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনে উত্তর কোরিয়ার আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালনের অভিযোগও উঠেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত মঙ্গলবার বলেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ার একটি ইউক্রেনীয় ইস্পাত কারখানায় হামলায় মস্কো উত্তর কোরিয়ার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতে সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন।