বাড়ছে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৩ এএম

উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ীভাবে সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কোনো ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি। মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দুই পক্ষ নিজেদের দাবিতে অনড় থাকায় নতুন আলোচনার সম্ভাবনাও তৈরি হয়নি। তবে উভয় দেশই জানিয়েছে প্রত্যক্ষ আলোচনা না চললেও, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত আছে। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (আইওইউ)-এর আওতায় নির্ধারিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১৭ আগস্ট শেষ হবে। তবে এর আগেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ সম্প্রসারণে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

গতকাল বুধবার পাকিস্তানের সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ঠিক কতদিন বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, ওয়াশিংটন-তেহরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা ও শান্তিচেষ্টা ব্যাহত করছে এমন বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে ইসলামাবাদ। তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে গতকাল বৈঠক করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, উভয় পক্ষই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। চলতি বছর ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পরে ১৭ জুন দুই দেশ ঐতিহাসিক ওই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। অস্থায়ী এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছানো। তবে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা এবং দুই দেশের নিরাপত্তা ইস্যুতে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় পরের আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।

চুক্তি কার্যকর থাকার মধ্যেই ৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে উভয় পক্ষ নতুন করে সামরিক হামলায় জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সে সময় ওয়াশিংটন ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে। উভয় পক্ষের এই সামরিক সংঘাতের পরও ১৭ আগস্টের সময়সীমা ঘনিয়ে আসার আগে কূটনীতিকরা যুদ্ধবিরতির চুক্তি টিকিয়ে রাখতে নতুন করে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে সংঘাত এড়ানোর পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা রাখার চেষ্টা চলছে।

তবে নতুন করে সংঘাত এড়াতে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি বাড়াতে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে জটিল সমীকরণের সমাধান কীভাবে হবে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সঙ্গে সবকিছু ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’ জানিয়ে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রিন্স জর্জেস কাউন্টির সামরিক ঘাঁটি জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আমাদের নৌবাহিনী অবিশ্বাস্য রকমের শক্তিশালী, আর আমাদের দেশের জন্য সবকিছুই খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি ইরানকে বিশ্বাস করি না। ইরানকে বিশ্বাস করবে, এমন সর্বশেষ ব্যক্তি হবো আমি। তারা আমাকে বারবার মিথ্যা বলেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’ তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইরান বলেছে, হরমুজ কখনোই অন্য কারও নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বাব আল-মান্দেবে হুতিদের হামলা : লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে একটি কার্গো জাহাজে ইরান সমর্থিত হুতিদের হামলায় চার নাবিক নিহত হয়েছে বলে ইয়েমেনের সৌদি আরব সমর্থিত সরকারের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ইয়েমেনের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, প্রণালিটিতে আরেকটি হামলায় হুতিবিরোধী সামরিক গোষ্ঠী ন্যাশনাল রেজিট্যান্স ফোর্সেস (এআরএফ) এর দুই উদ্ধারকারী নিহত হয়েছে। ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটিতে নিহত নাবিকদের তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয়। রয়টার্স জানিয়েছে মিসরের মালিকানাধীন জাহাজ তিহামাতে গত মঙ্গলবার ঘটা হতাহতের ঘটনাটি নিশ্চিত হলে, তা ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লোহিত সাগরে হুতিদের হামলায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা হবে।

যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেবে এক জাহাজে একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা নৌযানটির আগের ছবিগুলোর সঙ্গে ডেক ও মাস্তুলের আকার মিলিয়ে কার্গো জাহাজটিকে তিহামা বলে নিশ্চিত হয়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যে দেখা গেছে, ১১ আগস্ট তিহামা ইয়েমেনের মুরাদ এলাকার কাছে ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত