তেলিয়াপাড়া সীমান্তে চোরাচালানের ‘অঘোষিত রাজা’ সঞ্জয় পান্ডে

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগান সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য চোরাচালান জমজমাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, তেলিয়াপাড়া সীমান্তের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় এই চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে এককভাবে প্রভাব রয়েছে সঞ্জয় পান্ডের। কেউ কেউ তাকে তেলিয়াপাড়া সীমান্তের ‘অঘোষিত রাজা’ বলেও অভিহিত করেন।

স্থানীয়দের দাবি, এক সময় সঞ্জয় পান্ডে সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের মালামাল বহনের কাজ করতেন। পরবর্তীতে সীমান্তের দুই পাশের চোরাকারবারিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও প্রভাব বাড়তে থাকে। বর্তমানে রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন। জানা গেছে, সঞ্জয় পা-ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি দায়ের হয় গত ৮ আগস্ট মাধবপুর থানায়। মামলা নম্বর-১৫, জিআর-২৭১। অন্যটি দায়ের হয় ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চুনারুঘাট থানায়। সঞ্জয় পান্ডে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বিশ লাইনের বাসিন্দা। তার বাবা রাজারাম পান্ডে ওই চা-বাগানের শ্রমিক হিসেবে দৈনিক ১৭৯ টাকা মজুরিতে কাজ করেন। সঞ্জয় পা-ের প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা বাড়ি এবং প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেও তেলিয়াপাড়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বড় বাংলোয় ২৭ জন বাঙালি সেনা কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর নেতৃত্বে সেখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করার কার্যক্রম শুরু হয়। ঐতিহাসিক সেই তেলিয়াপাড়া বর্তমানে মাদক ও চোরাচালানের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এমন অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।