ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের সর্বোচ্চ সাজার আরজি প্রসিকিউশনের

গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয়েছে। গতকাল বুধবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি শেষ হয়। এদিন আদালতে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। গত ৪ আগস্ট এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। গতকাল পর্যন্ত মোট পাঁচ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন।

মামলার সাত আসামি হলেন নওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামির সবাই পলাতক এবং তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাদের পক্ষে যুক্তিতর্কের শুনানি করবেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা। গতকাল শুনানিকালে চিফ প্রসিকিউটর আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার পাশাপাশি তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আরজি জানান। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও আসামিদের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

গতকাল শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকত বা থাকে, তখন তারা নিজেদের প্রথম শ্রেণির নাগরিক এবং অন্যদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবত।’ শুনানিতে বলেছি, ‘আওয়ামী লীগের যে সেক্রেটারি জেনারেল ওবায়দুল কাদের, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক পলিটিক্যাল ক্লাউন (রাজনৈতিক জোকার)। কারণ তিনি, তার যে বিভিন্ন সময়ের ডায়ালগ, কথাবার্তা এটা কখনোই কোনো একজন রাজনৈতিক নেতাসুলভ কোনো বক্তব্য নয়, হতে পারে না। ওবায়দুল কাদেরের মতো একজন ‘জোকারকে’ দলের সাধারণ সম্পাদক করে আওয়ামী লীগ বিপর্যস্ত হয়েছে উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তার দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য, কর্মকা-ের জন্য ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেন, অঙ্গহানি হয়েছে।’