দেপোর্তিভোর বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয় রিয়ালের

আসন্ন নতুন মৌসুমের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে জয় পেলেও পারফরম্যান্সের ঘাটতি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার ঐতিহ্যবাহী 'তেরেসা এরেরা' ট্রফির ম্যাচে রিয়াজোর স্টেডিয়ামে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ দেপোর্তিভো লা করুনাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। পুরো ম্যাচে দলের আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠে ছন্দহীনতা দেখা গেলেও গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিনের অসাধারণ সেভ এবং ব্রাহিম দিয়াজের ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে কোনোমতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে হোসে মরিনহোর শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়ালের খেলায় কাঙ্ক্ষিত ধার ও গতি লক্ষ্য করা যায়নি। প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণের সামনে গোলের সুযোগ তৈরি করতে বেশ বেগ পেতে হয় মরিনহোর দলকে। তবে প্রথমার্ধের ঠিক যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় রিয়াল। দেপোর্তিভোর একটি কর্নার থেকে বল ক্লিয়ার করে লাফিয়ে গ্লাভসবন্দি করেন ইউক্রেনীয় গোলরক্ষক লুনিন। কালক্ষেপণ না করে তিনি এক নিখুঁত দূরপাল্লার পাস বাড়িয়ে দেন প্রতিপক্ষের অর্ধে থাকা ব্রাহিম দিয়াজের উদ্দেশ্যে। বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে প্রথম পোস্টে নিচু শটে বল জালে জড়ান দিয়াজ, যা রিয়ালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়।

প্রীতি ম্যাচের নিয়মে বিরতির পর দুই দলেই বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। মাঠে নামেন ফেদে ভালভার্দের মতো তারকারা, তবে গণহারে খেলোয়াড় বদলের কারণে ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দ আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এই সুযোগে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায় স্বাগতিক দেপোর্তিভো। রিয়ালের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তারা বেশ কয়েকবার গোলের খুব কাছাকাছিও চলে আসে।

তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দেপোর্তিভোর নিশ্চিত দুটি আক্রমণ রুখে দিয়ে দলের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক লুনিন। তার দুর্দান্ত 'ডাবল সেভ'-এর সুবাদেই শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় ও ক্লিনশিট নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয় রিয়াল।

প্রাক-মৌসুমের এই প্রস্তুতি ম্যাচে জয় এলেও রিয়ালের এমন ছন্দহীন ও মলিন পারফরম্যান্স কোচ হোসে মরিনহোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের ক্লাব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মরিনহো দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন, ‘এটি লা লিগায় ফিরে আসা একটি দলের বিপক্ষে বেশ সিরিয়াস একটি ম্যাচ ছিল। এই প্রীতি টুর্নামেন্টের দারুণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে, আর প্রতিপক্ষ তাদের সর্বস্ব দিয়ে আমাদের জন্য ম্যাচটিকে কঠিন করে তুলেছিল।’

বিশেষ করে আক্রমণভাগে বল সরবরাহের খরা এবং রক্ষণ ও মাঝমাঠের বোঝাপড়ার ঘাটতি বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মৌসুমের মূল প্রতিযোগিতামূলক লড়াইগুলো শুরুর আগে লস ব্লাঙ্কোসদের এই দুর্বলতাগুলো দ্রুত কাটিয়ে না উঠলে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।