পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে দীর্ঘ ১৬ বছর পর তালা ভেঙে প্রবেশ করেছেন অধ্যক্ষ পদ দাবি করা আসাদুজ্জামান টুলু।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় কলেজের অফিস কক্ষের দুটি এবং একটি শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে তিনি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৪ সালে কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি নেতা ও জাতীয় সংসদের হুইপ সৈয়দ শহিদুল হক জামাল কলেজটির উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পর ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়। এরপর অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই সহোদর বড় ভাই কামরুজ্জামান ও ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলুর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। দুজনই অধ্যক্ষের দায়িত্ব দাবি করে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মামলা জটিলতায় কলেজটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
আসাদুজ্জামান টুলুর দাবি, কলেজ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার বড় ভাই কামরুজ্জামান তখন স্নাতক সম্পন্ন না করায় কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগ দেন। পরে তিনি মাস্টার্স পাসের সনদ দেখিয়ে অধ্যক্ষের পদ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন টুলু। তার দাবি, ওই সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় কামরুজ্জামানকে কারাদণ্ড ও জরিমানা ভোগ করতে হয়েছে।
টুলু বলেন, দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার পর তিনি আদালতের রায় পেয়েছেন। এরপর স্থানীয়রা তাকে কলেজটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তিনি কলেজে প্রবেশ করেন।
কলেজের জমিদাতা পরিবারের সদস্য শরীফ মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, তার দাদা মরহুম আব্দুল হাকিম শরীফ কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেছিলেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর রাজনৈতিক বিরোধ ও দুই ভাইয়ের অধ্যক্ষ পদ নিয়ে বিরোধের কারণে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ওই স্থানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও চলছে। একাধিকবার কলেজটি চালুর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ছোট ভাই আদালতের রায় পেয়েছেন এমন দাবি পাওয়ার পর কলেজটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কলেজের সাবেক ইংরেজি শিক্ষক সুশোভন তালুকদার বলেন, তিনি ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কলেজটিতে শিক্ষকতা করেছেন। সে সময় আসাদুজ্জামান টুলু অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। তার ভাষ্য, বড় ভাই কামরুজ্জামানের করা মামলার বিপরীতে দুই দফা আসাদুজ্জামানের পক্ষে আদালতের রায় হয়েছিল। তিনি কলেজটি দ্রুত পুনরায় চালুর দাবি জানান।
তবে কামরুজ্জামান বলেন, কলেজের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এখান থেকে প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন। চলতি বছরও ২৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন সমস্যার কারণে স্থানীয়রা কলেজটিতে তালা দিয়ে রেখেছিলেন। আদালতের রায় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক নুরুল আলম বিপ্লব বলেন, তৎকালীন বিএনপি-সমর্থিত হুইপ সৈয়দ শহিদুল হক জামাল কলেজটির উদ্বোধন করায় পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারেনি বলে তিনি মনে করেন। এর পাশাপাশি দুই ভাইয়ের অধ্যক্ষ পদ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার কারণে কলেজটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। আদালতের রায়ের পর বৃহস্পতিবার কলেজটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কলেজের অবকাঠামো, কম্পিউটার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, কলেজটির অধ্যক্ষ পদ নিয়ে মামলা চলমান ছিলো। একটি পক্ষ রায়ে পেয়ে আমার কাছে রায় বাস্তবায়নের জন্য আবেদন করছেন। আমি উভয় পক্ষকেই নোটিশ দিয়েছি। যিনি রায় পাননি তিনি বিভিন্ন অজুহাতে সময় নিচ্ছেন। সর্বশেষ আগামী ১৭ অগাস্ট উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার কথা আছে। আদালতের রায়ে পরাজিত পক্ষ উপস্থিত না হয় তাহলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।