বিদ্যালয়ে ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ১২০ জন। শিক্ষক ১১ ও কর্মচারী রয়েছেন দুজন। 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাওয়া গেছে মাত্র ৭ শিক্ষার্থী। ষষ্ঠ শ্রেণিতে একজন, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে একজনও নেই। নবম ও দশম শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল ৩ জন করে।

শিক্ষার্থীদের এমন নগণ্য উপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মণ্ডল বলেন, এর জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রভাব, স্বল্প সন্তান নেওয়ার প্রবণতা এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশকে দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, স্বল্প সন্তান পরিবার এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশ দায়ী।’

তবে বিদ্যালয়ের নথিতে ১২০ শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত পাঠদানে অংশ নিচ্ছে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন এ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। 

তাহলে বাকি ১১৩ শিক্ষার্থী কোথায়? তাদের নিয়মিত অনুপস্থিতির কারণ কী, আর বিদ্যালয়ের নথিতে তাদের উপস্থিতি ও শিক্ষার্থী হিসেবে হিসাব কীভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলও পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ বছর ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। ২০২৫ সালে ৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ১ জন। অর্থাৎ দুই বছরে ১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র দুজন।

গত ১০ আগস্ট বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নেছারাবাদসহ পিরোজপুরে আলোচনা শুরু হয়। এর পরদিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নথিতে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও শ্রেণিকক্ষে তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ওয়াশরুমের সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে না পারার বিষয় উল্লেখ করেন।

এসএসসি পরীক্ষার্থী দেখানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রধান শিক্ষিক জানান, এসএসসি পরীক্ষায় অন্তত ১০ থেকে ১২ পরীক্ষার্থী দেখাতে হয়। এ কারণে পাশের সপ্তগ্রাম সম্মিলনী বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, বিদ্যালয় থেকে ১১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজন পাস করেছে। অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টিও তাঁর জানা আছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত