ইংল্যান্ড দলের রাতের কারফিউ তুলে নিলেন অধিনায়ক রুট

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের শৃঙ্খলা এবং নিয়মনীতির বেড়াজাল যেন এক চিরস্থায়ী প্রহসন। রাত কয়টায় ঘুমোতে যাবেন বা মাঠের বাইরে ক্রিকেটারদের আচরণ কেমন হবে? গত এক দশক ধরে চলা এই বিতর্ক থামানোর দায়িত্ব এবার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন টেস্ট দলের নতুন অধিনায়ক জো রুট। সাত মাস আগে চালু হওয়া সেই আলোচিত নাইট কারফিউ এর নিয়ম পুরোপুরি বাতিল করে ক্রিকেটারদের ওপর পূর্ণ আস্থা ও দায়িত্ববোধ অর্পণ করেছেন তিনি।

খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পরিপক্বতার ওপর ভরসা রেখে বর্তমান প্রসঙ্গে টেস্ট অধিনায়ক রুট স্কাই স্পোর্টসের ক্রিকেট পডকাস্টে বলেন, ‘কারফিউ বলে কিছু থাকছে না। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না বিষয়টি নিয়ে বড় কোনো হুলুস্থুল করার প্রয়োজন আছে। শেষ পর্যন্ত আপনারাই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, আপনারা জানেন ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার অর্থ কী, মাঠের বাইরে আপনাদের দায়িত্বগুলো কী। আমরা যদি মাঠে ভালো খেলি এবং মাঠের বাইরের পারফরম্যান্স দিয়ে খবরের শিরোনামে আসি, তবেই সব ঠিক আছে। আসুন সাবালক মানুষের মতো আচরণ করি।’

বর্তমান দলের এই শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে রুট আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘যদি আপনি চান খেলোয়াড়েরা মাঠে দায়িত্ব নিক, তবে মাঠের বাইরেও তাদের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মতো অনুভব করতে হবে এবং ভালো ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে দিতে হবে।’ 

এর আগে ২০১৭ সালে নিজের প্রথম অধিনায়কত্বের মেয়াদেও অ্যাশেজ সফরের আগে বেন স্টোকস ব্রিস্টলের একটি নাইটক্লাবের বাইরের অনভিপ্রেত ঘটনার কারণে দলে না থাকায়, সেসময়ও রুট একই সুরে মন্তব্য করে বলেছিলেন, ‘আমরা সাবালক মানুষ এবং আমরা কীভাবে আচরণ করতে হয় তা জানি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আপনি সব সময় ব্যাজটির প্রতিনিধিত্ব করছেন। আমরা প্রাপ্তবয়স্কদের একটি দল এবং আমরা মনে করি আমাদের সেভাবেই মূল্যায়ন করা উচিত।’ দীর্ঘ সময় পার হলেও রুটের এই দৃষ্টিভঙ্গি মূলত একই রয়েছে।

গত এক বছর ধরে ইংলিশ টিম ম্যানেজমেন্টের নিয়ম বদলের এই লুকোচুরি রীতিমতো হাসির খোরাক জুগিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে একাধিক অনভিপ্রেত ঘটনার পর সাদা বলের দলের জন্য এই কারফিউ চালু করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে গ্রীষ্মের শুরুতে টেস্ট দলেও বলবৎ করা হয়। কিন্তু প্রথম টেস্টের পরই স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসন লন্ডনের একটি নাইটক্লাবে নিয়ম ভাঙলে নতুন তোলপাড় শুরু হয়।

পরিচালকদের মধ্যে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ করার গুঞ্জন উঠলেও খোদ কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম স্বীকার করেছিলেন যে নিয়মের মাঝে বেশ 'অস্পষ্টতা' ছিল। পরবর্তীতে ম্যাককালামের বিদায়ের আগে টি-টোয়েন্টি দলের সিরিজ জয় উদযাপনের জন্য নিয়মের বেড়াজাল কিছুটা শিথিল করা হয়। আর এবার নতুন কোচ স্টিভেন ফ্লেমিং ও অধিনায়ক রুটের যৌথ ও সাহসী সিদ্ধান্তে টেস্ট এবং সীমিত ওভার, উভয় দল থেকেই পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলো এই কারফিউ ।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, নিয়মের বেড়াজাল থাকুক বা না থাকুক, মাঠের ফলাফল বদলাতে না পারলে কোনো নিয়মই ইংলিশদের রক্ষা করতে পারবে না। রুট ও টিম ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্ত যদি মাঠের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়, তবে কারফিউ নিয়ে এই লুকোচুরি আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। মাঠের খেলায় জয় এনে ট্রফি জিতলেই কী কেবল ক্রিকেটাররা নিজেদের মতো করে উদযাপনের স্বাধীনতা পাবে? হয়তো এটাই এখন ইংলিশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।