হঠাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া বেন স্টোকস এবার দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। ‘ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেট’ পডকাস্টে সাবেক সতীর্থ স্টুয়ার্ট ব্রড ও জস বাটলারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি হ্যারি ব্রুককে ডিঙিয়ে জো রুটকে টেস্ট অধিনায়ক করার প্রক্রিয়া নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন।
পাশাপাশি, ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের কোচ হওয়ার প্রবল ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে, আধুনিক পেশাদার যুগেও ক্রিকেটে অ্যালকোহলের শেকড় গেড়ে থাকা সংস্কৃতি নিয়ে নিজের সুপ্ত ক্ষোভ ও অভিজ্ঞতার কথা একদম রাখঢাক না রেখেই সামনে এনেছেন।
ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের তার নেতৃত্ব ছাড়ার পর ব্রুকই স্বাভাবিক উত্তরসূরি হবেন, এমনটাই ধারণা ছিল সবার। কিন্তু রবার্ট কি ও টিম ম্যানেজমেন্ট ব্রুককে দায়িত্ব না দিয়ে অভিজ্ঞ রুটকে পুনরায় লাল বলের অধিনায়ক বানায়। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি সমালোচনা করে বেন স্টোকস বলেছেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের যুক্তিটা হয়তো বুঝতে পেরেছিলাম, কিন্তু তবুও আমার মনে হয়েছিল, এটি তাকে ঠিক কী বার্তা দিচ্ছে?’
স্টোকস আরও যোগ করেন, ‘সে দলের সহ-অধিনায়ক। অথচ অধিনায়ক যখন খেলছে না, তখনো সে অধিনায়ক হচ্ছে না! ব্যাপারটি কী? আমার নিজের বেলায় তো কোনো নেতৃত্ব বা ক্যাপ্টেন্সির অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও আমার ওপর ভরসা রাখা হয়েছিল।’
এদিকে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের কোচ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি যখন খেলা ছাড়ব, তখন আমি চাই সব কিছু গুছিয়ে রাখতে এবং খেলাটির সঙ্গেই যুক্ত থাকতে। আর ভবিষ্যতে কি আমি একদিন ইংল্যান্ডের কোচ হতে চাইব? একেবারে নিশ্চিতভাবেই হ্যাঁ। খেলা থেকে দূরে থেকে কেবল নেতৃত্ব দেওয়ার আইডিয়াটাই আমার ভীষণ ভালো লাগে।’
এদিকে রুট পুনরায় টেস্ট দলের দায়িত্ব নেওয়ায় তাকে শুভকামনা জানালেও নিজের বন্ধু ও সতীর্থকে নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথাও জানান স্টোকস। অতীতে রুটের প্রথম দফার অধিনায়কত্বের কঠিন সময়গুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি জো-কে একটাই কথা বলেছি যে, আমার একমাত্র চিন্তা হলো শুধু তোমাকে নিয়ে। কারণ অতীতে সে দলের জন্য কতটা কষ্ট করেছে এবং নিজের ওপর দিয়ে কত ধকল গেছে তা আমি দেখেছি। সে সবসময় সবার আগে দলকে রাখে, নিজের কথা ভাবে সবার শেষে। আগের সেই কঠিন সময়ের পুনরাবৃত্তি যেন আর কখনো না ঘটে, সেটাই আমার একমাত্র ভয়।’
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের খেলোয়াড়দের নাইটক্লাব কাণ্ড এবং কার্ফু ভাঙার জেরে সৃষ্ট বিতর্ক ও দলের ভেতর মদ্যপানের সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্টোকস একে সামগ্রিক ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের সমস্যা বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষায়, ‘না, দলটার কোনো ড্রিংকিং প্রবলেম আছে, এমনটা বলা চরম বাড়াবাড়ি হবে। তবে ক্রিকেটের সঙ্গে অ্যালকোহলের একটা সংস্কৃতি ও সম্পর্ক অনেক দিন থেকেই জড়িয়ে আছে, যা আজও বদলায়নি। খেলাধুলা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান যতই পেশাদার হোক না কেন, অ্যালকোহলের এই ব্যাপারটি থেকে গেছে।’ নিজের ক্যারিয়ারের সঙ্গে এর সংযোগ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারেও অ্যালকোহলের সঙ্গে এমন কিছু সম্পর্ক ছিল যা বিপজ্জনক হতে পারত। তবে বর্তমানের আমি আর সেসময়ের আমি এক নই।’
হারতে হারতে ৩০ বছর! তবুও দ্বিতীয় বিভাগে ওঠার স্বপ্ন