চোখের সামনে নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও ফলের বাগান। ভাঙনের শব্দে আতঙ্কিত নদীপাড়ের মানুষ। কখন নিজের শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে চলে যায় এই শঙ্কায় দিন-রাত কাটছে তাদের।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ বসতবাড়িসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও বসতবাড়ি, ফসলের মাঠ, সড়ক ও মসজিদ।
চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর, নতুনপাড়া, দক্ষিণপাড়া, কান্দারচর, গুনাপাড়া, ৪ নম্বর চর ও ডিগ্রীরচরসহ অন্তত ১১ গ্রামের মানুষ এখন চরম আতঙ্কে রয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙনে আমার চারটি পাকা বাড়ি চোখের পলকে নদীতে চলে গেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। ভোরে স্থানীয়রা এসে একটি ঘরের কিছু অংশ কোনোমতে উদ্ধার করতে পারলেও বাকিটুকু রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। জীবনে যা কিছু করেছি, সবই শেষ হয়ে গেছে।
ভাঙনের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন আসমা বেগমও। নদীর কাছেই কোনোমতে ঘর তুলে বসবাস করছিলেন তিনি। এখন সেই ঘরটিও ভাঙনের ঝুঁকিতে। আসমা বেগম বলেন, যা সম্পত্তি ছিল, সব নদী নিয়ে গেছে। এখন কোনোমতে নদীর কাছেই ঘর বানিয়ে আছি। সেটাও ভাঙনের কবলে পড়ছে। এখন কোথায় যাব, কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার তো আপন বলতে কেউ নেই। সরকার যদি একটু দেখত, তাহলে আমার জন্য অনেক উপকার হতো।
শুধু বসতভিটা নয়, নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয়দের জীবিকার উৎসও। নিজের কলাবাগান নদীগর্ভে চলে যেতে দেখে অসহায় দুলাল সরকার বলেন, নদীর তীব্র ভাঙনে আমার কলাবাগানটা চোখের সামনে নদীতে চলে যাচ্ছে। শুধু তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই। এই বাগানটাই ছিল আমার সংসারের একমাত্র অবলম্বন। এখন আমি কী করব, কোথায় যাব, কী খাব, কিছুই জানি না।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্য সহকারী মো. মাহফুজুল ইসলাম জানান, লক্ষ্মীপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের বাম তীরে প্রায় ১০০ মিটার অংশে তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ায় আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। নদীর উজান ও ভাটির আরও কয়েকটি স্থানেও ভাঙন চলছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেসব স্থানেও প্রতিরোধমূলক কাজ করা হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। তাই স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।