মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে অন্য দেশকে 'বক্তৃতা' দেওয়ার আগে নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতায় সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলে ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাকচি। ইরানের ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাকচি বলেন, 'ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর উচিত বিশ্বকে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে জ্ঞান দেওয়া বন্ধ করা। তাদের ভণ্ডামি স্পষ্ট এবং বিব্রতকর।'
এর আগে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ ৩২টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ইরানে বিদেশি-সমর্থিত দাঙ্গায় জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিরোধিতা করে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেহরানসহ দেশটির কয়েকটি শহরে বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইরানি কর্মকর্তারা এসব দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও দাবি করেছেন, সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
আরাকচি বলেন, 'গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতি আপনাদের সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আপনাদের কল্পিত নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের যা কিছু অবশিষ্ট ছিল, তাও ধ্বংস করে দিয়েছে।'