ওয়াশিংটনের তেল অবরোধ ও কঠোরতর নিষেধাজ্ঞায় তীব্র হয়ে ওঠা অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মশতবার্ষিকী পালন করেছে কিউবা। দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটগুলোর একটি সময়ের মধ্যেই তাঁর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
কিউবা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, কাস্ত্রোর স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এ সপ্তাহে লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার ৬০টিরও বেশি দেশ থেকে দেড় হাজারের বেশি কর্মী ও সংহতি সংগঠনের প্রতিনিধি ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটিতে গেছেন।
সোমবার কাস্ত্রোর উত্তরাধিকার নিয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল বলেন, 'ফিদেলের উত্তরাধিকার আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও জোরালোভাবে আমাদের সামনে কথা বলে।'
তিনি আরও বলেন, কাস্ত্রোকে শুধু ইতিহাসের একজন নেতা হিসেবে নয়, আজকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথপ্রদর্শক হিসেবেও—২০২৬ সালের বাস্তব কিউবায়—স্মরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
হাভানা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক যখন ক্রমেই তিক্ত হয়ে উঠছে, তখন কাস্ত্রোর জন্মশতবার্ষিকীর এই আয়োজন হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কিউবার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দেশটির বিরুদ্ধে তেল অবরোধ আরোপ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞাও আরও কঠোর করেছে ওয়াশিংটন। কিউবার সরকার এটিকে দেশটির অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমকে পঙ্গু করে দেওয়ার নজিরবিহীন প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির ব্যাপক প্রভাব পড়েছে পুরো কিউবায়। দেশটির অধিকাংশ প্রদেশে প্রতিদিন ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে খাদ্য উৎপাদন, পরিবহন ও পর্যটন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কারিগরি বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। শুধু জুলাই মাসেই দেশটির জাতীয় গ্রিড তিনবার পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।
এই সংকট মোকাবিলায় গত জুনে কিউবার সরকার সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে ১৭৬টি পদক্ষেপের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করে।
পদক্ষেপগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে তা মুক্তবাজারভিত্তিক পুঁজিবাদকে নজিরবিহীনভাবে গ্রহণের ইঙ্গিত দেবে, যা কয়েক দশক ধরে কাস্ত্রোর শাসনামলে গড়ে ওঠা সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক মডেলের সঙ্গে বড় ধরনের বৈপরীত্য তৈরি করবে।
ইতোমধ্যে কিছু সংস্কার কার্যকরও হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে জ্বালানি খাতের কথা বলা যায়। চলতি বছর কিউবার বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে দেশটিতে বিশৃঙ্খল কালোবাজারের বিস্তার ঘটছে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও গভীর হচ্ছে।