পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তানিয়া বেগমকে (৩৮) মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে পশ্চিম ঘেরাখালী মোল্লা স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় তাকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তানিয়া বেগমের অভিযোগ, স্থানীয় একটি জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের সালিশে তিনি সালিশদার হিসেবে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে যাওয়ার পর খবির, লিটন গাজী, রিপন, রত্তন, আলমগীর, লিমন ও লতিফ সিকদারসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা করেন। এতে তার মাথা ও হাতে আঘাত লাগে এবং একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান।
তানিয়া বেগম বলেন, ‘সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সেখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই আমি পুলিশকে ফোন করে জানিয়েছিলাম। পরে সেখানে পৌঁছালে কয়েকজন আমাকে মারধর করেন। আমি মাটিতে পড়ে যাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চাই।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও তানিয়ার ভাই জলিলের দাবি, হামলাকারীদের কয়েকজন একটি হত্যা মামলার আসামি। ওই মামলায় তানিয়া সাক্ষী। সেই মামলার জের ধরেই তার ওপর হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী শাহজাহান মোল্লা বলেন, ‘জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে সালিশের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সালিশের আগের দিন কয়েকজন সেখানে ঘর নির্মাণ করতে যান। বিষয়টি মেম্বারকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানে আসার পরই তার ওপর হামলা করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লিটন গাজী। তিনি বলেন, ‘তানিয়া মেম্বারকে কেউ মারধর করেনি। তিনি নিজেই রাস্তায় শুয়ে পড়েছেন। তিনি সালিশদার, তাকে আমরা কেন মারতে যাব?’
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পরে এ বিষয়ে আর কেউ থানায় যোগাযোগ করেনি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’