যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের সরকারি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছয় মাসের এই দূরদর্শী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক। আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই।

ব্যবসাবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য বেসরকারি খাতনির্ভর একটি নিয়মভিত্তিক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমরা চাই, এই রূপান্তরে মার্কিন ব্যবসাগুলো আমাদের অংশীদার হোক।

তারেক রহমান বলেন, সরকার বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধি-বিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নতি, মুনাফা প্রত্যাবাসন সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশনে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তারও উন্নতি করছি। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছি।

সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা এবং দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, আসুন আমরা একসঙ্গে প্রবৃদ্ধি অর্জন করি এবং একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

প্রতিনিধিদলটি এর আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ নিয়ে কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন মাস্টারকার্ডের গ্লোবাল পাবলিক পলিসি ও ইন্দো-প্যাসিফিক পলিসি অপারেশন্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি অরোরা, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা, মেটার দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক পলিসি পরিচালক চা ইউয়েন টিং, মেটা বাংলাদেশের হেড অব পাবলিক পলিসি রুজান সারওয়ার, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক কেভিন রোপকে, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের বাংলাদেশ কান্ট্রি টিম লিড খবিবুর রহমান, ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান আনন্দ বিজয় ঝা এবং ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ।

বৈঠকে বক্তব্য দেন বোয়িংয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতের প্রেসিডেন্ট এবং বোয়িং গ্লোবালের ভাইস প্রেসিডেন্ট সলিল গুপ্তে, শেভরন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট শু শিয়ং, মেটলাইফের বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, নেপাল ও ভিয়েতনাম অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এলেনা বুতারোভা, উবারের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পাবলিক পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিলেশনস বিভাগের প্রধান পিয়া ব্রুনার এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাহী পরিচালক সিদ্ধান্ত মেহরা।

এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর প্যাট্রিক পিটস, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক উদয়া অরুণ, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পরিচালক দেবী চ্যাটার্জি এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সিকিউরিটি কনসালট্যান্ট শেমেই লেভি।

রাজশাহী বিভাগের সব জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক : এদিকে রাজশাহী বিভাগের সব জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, রাজশাহী বিভাগ, জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয়াদি নিয়ে দলের চেয়ারম্যান বৈঠক করেছেন। এটা ধারাবাহিক বৈঠক।

বৈঠকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুসহ রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশে গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম বিস্তৃত করতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে গণিত চর্চা ও গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা প্রদান করা হবে।

গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড (আইএমও) এবং ইউরোপীয় বালিকা গণিত অলিম্পিয়াডের (ইজিএমও) বিজয়ী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়ে বলেন, সাক্ষাৎকালে পদকজয়ী শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং গণিত অলিম্পিয়াডে তাদের অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা ও অর্জনের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও সাফল্য অর্জনের জন্য শুভকামনা জানান। এ সময় বাংলাদেশ বালিকা গণিত ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাবির নাজমুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী : উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাজমুল হাসানের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সুইডেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া নাজমুলের বিদেশযাত্রা ও প্রাথমিক আবাসনসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে অনুদান দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাজমুল হাসান। এ সময় তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনুদান প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

নাজমুল হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স (থিসিস) শিক্ষার্থী এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি নাজমুল হাসান সুইডেনের স্কোভডে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করেন। তবে বিদেশযাত্রা ও প্রাথমিক আবাসনসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা তার পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সাক্ষাৎ শেষে নিজের অনুভূতি জানিয়ে নাজমুল হাসান বলেন, একজন সত্যিকারের নেতা সবসময় তার কর্মীদের মূল্যায়ন করেন। তিনি আমাকে আবার ফিরে এসে দেশের সেবা করতে বলেছেন। আমি তাকে বলেছি, ‘আপনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে আমি আবার ফিরে আসব।’