তানজিদের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি দিয়ে শুরু, সেই পথেই এগোচ্ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্তও। তবে মাঝে ১১ রানে মাঝেই বাংলাদেশ হারাল ৩ উইকেট। সেখান থেকে দিনের বাকি সময়টা যেন হয়েও হলো না অস্ট্রেলিয়ার। মিরাজ-হাসানের দৃঢ়তায় লিড দেড়শ পেরিয়ে দিনের খেলা শেষ করলো সফরকারীরা। ডারউইনে দ্বিতীয় দিনেও তাই অজিরা দেখল এক নিখাদ বাংলাদেশ শো।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ১১০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৫১ রান। এতে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের লিড ১৫৩ রানে, হাতে এখনো ৪ উইকেট। আজকের দিনে ৮৬ ওভার খেলে ২৫৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ।
তানজিদের স্পেশাল হান্ড্রেড ও শান্তর ৮৪
১০২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনের শুরুটাও দারুণ পায় বাংলাদেশ। পিচে থিতু হয়ে বেশ বুঝেশুনে এগোচ্ছিলেন তানজিদ ও মুমিনুল। তাদের জুটি পেরিয়ে যায় শতরানে। তবে সেখান থেকে আর বাড়তে দেয়নি অজিরা। ৪০তম ওভারে জশ হ্যাজলউডের বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটে পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন মুমিনুল। ফেরেন ফিফটি থেকে এক রান দূরে থেকে। দলীয় সংগ্রহ তখন ২ উইকেটে ১৩৮ রান।
তবে অজিরা থামাতে পারেননি তানজিদকে। জোড়া সুযোগ পেয়ে নিজের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই তুলে নেন লাল বলের ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি, সেটিও আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আর যেই কীর্তি এখন কেবল এই ডানহাতি ব্যাটারেরই।
তানজিদের এই অসাধারণ ইনিংসের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল লায়ন-নামা। গতকাল শূন্য রানে ব্যাট করার সময় তার ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন নাথান লায়ন। এরপর আজ দিনের প্রথম সেশনে ৪৩তম ওভারে এই লায়নের বলেই ম্যাচে দ্বিতীয় সুযোগ পান তানজিদ। স্লিপে তার ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন স্টিভ স্মিথ। তখন তানজিদ ব্যাট করছিলেন ৬২ রান। সেখান থেকে ইনিংসের ৬৪তম ওভারের শেষ বলে যখন বল করছিলেন লায়ন সেখানেই সেঞ্চুরি তোলেন এই ২৫ বছর বয়সী ব্যাটার আর পরের ওভারেই ফিরলেন সাজঘরে। ১৯৭ বলে তার ইনিংস থামল ১০১ রানে। ঐতিহাসিক এই ইনিংসে মেরেছেন ৮টি চার ও ১টি ছক্কা।
দলীয় সংগ্রহ ২৩১ রানের মাথায় তানজিদ ফিরলে থামে শান্ত সঙ্গে তার ৯৩ রানের জুটি। সেখানে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে সংগ্রহ বাড়ানোর পথে এগোন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আশা জাগাচ্ছিলেন সেঞ্চুরিরও। তবে ফেরেন ৮৪ রান করে, স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে। সেঞ্চুরি না পেলেও মাঠ ছাড়ার সময় পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে সম্মান জানায় শান্তর ইনিংসকে, যেন অভেদ্য ঘাটিঁতে অনবদ্য লড়াইয়ের জন্য কাপ্তানকে সংবর্ধনা।
১১ রানের মধ্যে ফেরেন মুশফিক-লিটন-শান্ত, বাকি সময়ে জবাব মিরাজ-হাসানের
শান্ত ফেরার ওভার তিন বাদেই সাজঘরের রাস্তা মাপেন লিটন দাসও, তাও আবার রানে খাতা না খুলে। দলীয় প্রর্দশনীর দিন লিটনের এমন পারফর্ম যেন বড্ড বেমানান। চার বল বাদে একই পথে মুশফিকও (৩৬)। শঙ্কা জেগেছিল দিনের খেলা শেষে আগেই অলআউট হয়ে যাবে শান্তরা! তবে সেখানে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন মিরাজ ও হাসান। অজিদের ঝুলিতে পুরতে দিলেন না আর কোনো উইকেট। মিরাজ অপরাজিত আছেন ৩২ রানে আর হাসান ১৩ রানে।
প্রথম দিনটাও ছিল বাংলাদেশেরই
মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম দিনেই অজিদের ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ১৭ ওভারে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম এক ইনিংসে ৬ উইকেটের স্বাদ পান হাসান মাহমুদ। এছাড়া এবাদত ও তাসকিন নেন দুটি করে উইকেট। স্বাগতিকদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্টিভ স্মিথ।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করে সফরকারীরা। দলীয় ৩৬ রানে সাদমান (২০) স্টার্কের শিকার হলেও, তানজিদ ও মুমিনুলের দায়িত্বশীল ব্যাটে ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে):
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮/১০ (স্মিথ ৭১, ওয়েদারল্ড ২৩, হেড ২২, কেরি ১৯, গ্রিন ১৩, ওয়েবস্টার ১২; হাসান ৬/৫৫, তাসকিন ২/৫৫, এবাদত ২/৩৯)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস*: ৩৫১/৬ (১১০ ওভার) (মুমিনুল ৪৯, তানজিদ ১০১, শান্ত ৮৪, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৩২*; স্টার্ক ২/৬৮, হ্যাজলউড ২/৬৮)।