'বোলার নয়, বলের মেরিট দেখে খেলেছি', সেঞ্চুরিয়ান তামিম

ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৯৮ রানের জবাবে সফরকারীরা ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৫১ রান তুলে দিন শেষ করেছে। এতে টাইগারদের ঝুলিতে জমা হয়েছে ১৫৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড। বাংলাদেশের এমন আলো ঝলমলে দিনে ব্যাট হাতে রূপকথা লিখেছেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। টেস্ট ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি।

দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের সেঞ্চুরি, পরিকল্পনা, প্রতিপক্ষের স্লেজিং এবং ম্যাচের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে পাওয়া প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটি তানজিদ তামিম উৎসর্গ করেছেন তার বাবা-মাকে। ভালো লাগার মুহূর্তটি নিয়ে তানজিদ বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো একটা দিন পার করেছি আমরা। পরিকল্পনা এটাই ছিল—প্রথম সেশন কীভাবে কাটাতে পারি। ওরাও অনেক ভালো বোলিং করেছে। আমাদের চেষ্টা ছিল বাড়তি কিছু করব না। দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি, সত্যিই ভালো লাগার মুহূর্ত। সেঞ্চুরিটা যেহেতু স্পেশাল, আমি আমার বাবা-মায়ের জন্য এটা দিতে চাই।"

অস্ট্রেলিয়ার শক্ত বোলিং লাইনেও মেজাজ হারাননি তানজিদ। ইনিংসে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে একাধিক বড় জুটি গড়ে তোলেন। নিজের ব্যাটিং কৌশল নিয়ে তানজিদের বক্তব্য, "ওরা এক নম্বর দল, টাফ টাইম অবশ্যই দেবে। নতুন বলে ওদের বিপক্ষে খেলা একটু কঠিন ছিল। আমরা চেষ্টা করেছি শট কমিয়ে কীভাবে স্ট্রাইক রোটেট করা যায়। উইকেটে থেকে বাজে শট না খেলে পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টা করেছি। মুমিনুল ভাই, শান্ত ভাই ও মুশফিক ভাইদের সাথে জুটিগুলো ভালো রান করতে সহায়তা করেছে। আমি কখনও বোলার দেখে খেলিনি, চেষ্টা করেছি বলের মেরিট অনুযায়ী খেলার।"

 অস্ট্রেলিয়ানদের আক্রমণাত্মক বোলিং এবং মুখের বাকযুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন বলে জানান তিনি। স্লেজিং প্রসঙ্গে তার সরল স্বীকারোক্তি, "আমি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম এটার জন্য। জানি, যখন উইকেট পাবে না হার্ড টাইম দেবে—সেটা বোলিং দিয়ে হোক বা মুখের কথায়। ওরা করেছে কিছুটা, তবে এতটা করেনি। যেহেতু প্রস্তুত ছিলাম, গুরুত্ব দেইনি।"

মাঠের দর্শক ও ড্রেসিংরুম থেকে পাওয়া সংবর্ধনা নিয়ে আবেগপ্রবণ তানজিদ বলেন, "সবাই যখন দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাচ্ছিল, সেটা অনেক ভালো লাগার একটা জায়গা। এটাই হয়ত টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য, আজ ফিল হয়েছে।"

ইনিংস শেষে সম্প্রচারকারী দলের হয়ে সাক্ষাৎকার নিতে এসেছিলেন অসি কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। শৈশবের হিরোর কাছ থেকে প্রশংসা পেয়ে রোমাঞ্চিত তানজিদ বলেন, "গিলক্রিস্টকে ছোটবেলায় দেখতাম, উনি আমাদের পছন্দের প্লেয়ার। ও যখন ইন্টারভিউ করছিল, আমাকে বলেছে অনেক উপভোগ করেছে আমার ব্যাটিং। এটা অনেক ভালো লাগার বিষয়।"

নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক রূপ ছেড়ে ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গে তানজিদ বলেন, "টেস্ট দলে নেওয়ার সময় স্পষ্ট বার্তা ছিল আমি কেমন খেলব। ওয়ানডেতে যেভাবে ব্যাট করি একই মাইন্ডসেট নিয়ে খেলার চেষ্টা করেছি। ওরা আমাকে বাজে বল করেনি বা রুম দেয়নি, অনেক টাইট লাইনে বল করেছে। তাই চেষ্টা করেছি যত বেশি ধৈর্য নিয়ে খেলা যায়।"

ডারউইনের উইকেট প্রসঙ্গে তামিম জানান, নতুন বলে রান করা সহজ হলেও বল পুরনো হলে একটু কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বাকি তিন দিনে বড় লিড নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখাই দলের মূল লক্ষ্য। তানজিদের মতে, "যেহেতু এখনও ৩ দিন লম্বা সময় আছে, আমরা চাইব যত বেশি সেশন ব্যাট করা যায় তত ভালো। যত বেশি রান দেওয়া যায়, তত বোলারদের কাজ সহজ হবে।"