কারিগরি ত্রুটিতে ফের বন্ধ এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে আবারও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্ধ হওয়ার আগে টার্মিনালটি থেকে দৈনিক প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। ফলে টার্মিনালটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

গত ২১ জুলাই অগ্নিকান্ডের পর এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সংকটের প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি স্টেশনেও গ্যাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু করা হয়। একটি বয়লার ব্যবহার করে ধীরে ধীরে রিগ্যাসিফিকেশন শুরু করা হয়েছিল। তবে চালুর কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে কারিগরি সমস্যায় পড়ল টার্মিনালটি। এদিকে সাগর উত্তাল থাকায় বৃহস্পতিবার সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ বন্ধ ছিল। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সামিটের টার্মিনাল থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও রাত পর্যন্ত সরবরাহ ছিল প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট। রাতের মধ্যে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ এবং সামিটের সীমিত সরবরাহের কারণে জাতীয় গ্রিডে তৈরি হওয়া ঘাটতি দ্রুত পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে গ্যাস সংকট এবং ভোগান্তি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।