মুখোমুখি অবস্থানে বিওএ-সংগঠকরা

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে কর্মকর্তা ও কোচের নাম পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) ও নতুন অ্যাডহক কমিটির কর্মকর্তাদের মধ্যে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি ফেডারেশন আগের কমিটির পাঠানো কর্মকর্তা ও কোচের নাম পরিবর্তনের দাবি জানালেও বিওএ তা অনুমোদন করেনি বলে জানা গেছে। ফেডারেশন সূত্রের দাবি, ২২টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে মাত্র তিনটির কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রে ‘না’ করে দেওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। এমনকি দাবি মানা না হলে মানববন্ধনের হুমকিও দিয়েছেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে। গত ৩০ জুন ছিল ক্রীড়াবিদ, কোচ ও কর্মকর্তাদের নাম পাঠানোর শেষ সময়। তখন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত অ্যাডহক কমিটিগুলো দায়িত্বে থাকায় তাদের পাঠানো তালিকাই বিওএর কাছে জমা পড়ে। পওে ১৮ জুলাই বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৭টি ফেডারেশনে নতুন করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। এসব কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন মাস।

নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, টেবিল টেনিসসহ অধিকাংশ ফেডারেশন আগের তালিকায় থাকা কর্মকর্তা ও কোচের নাম পরিবর্তনের দাবি জানায়। তাদের যুক্তি, যারা বর্তমানে ফেডারেশনের দায়িত্বে নেই, তাদের পরিবর্তে নতুন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরই আন্তর্জাতিক আসরে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে থাকা উচিত। কিন্তু বিওএ থেকে কাক্সিক্ষত জবাব না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনে ১৩টি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে বিষয়টি নিয়ে বিওএর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এবিএম শেফাউল কবিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তারা। অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন বলেন, ‘আমরা ২৩ জুলাই কর্মকর্তা পরিবর্তনের জন্য বিওএকে চিঠি দিয়েছিলাম। আর সর্বশেষ সময় ছিল ১০ আগস্ট। এত সময় হাতে থাকার পরও নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও আমাদের সন্দেহ হচ্ছে।’

নাম পরিবর্তন নিয়ে বিওএর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তপন। তার ভাষ্য, কয়েকটি ফেডারেশনের কর্মকর্তা পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্য ফেডারেশনের বিষয় জানি না। তবে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন থেকে ২৩ জুলাই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী তখনো যথেষ্ট সময় ছিল। এ কারণে নাম পরিবর্তন করা যুক্তিযুক্ত ছিল।’

বিষয়টি নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তপন। তিনি বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী মহোদয় আমাদের জানিয়েছেন, কমনওয়েলথ গেমস পর্যন্ত আগের অ্যাডহক কমিটির তালিকা বহাল থাকবে। তবে কমনওয়েলথ গেমসের বাইরে এশিয়ান গেমসসহ পরবর্তী আন্তর্জাতিক আসরগুলোর জন্য বর্তমান অ্যাডহক কমিটির তালিকাকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

তারপরও বিওএর পক্ষ থেকে আগের অ্যাডহক কমিটির পাঠানো নামই বহাল রাখার কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি ফেডারেশন কর্মকর্তাদের। এর কারণ হিসেবে এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিল পরিবর্তিত তালিকা গ্রহণ করবে না বলে জানানো হয়। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো লিখিত নথি তাদের দেওয়া হয়নি। বরং বিওএর মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি মৌখিকভাবে এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের কাছে উত্থাপন করা হয়েছিল এবং তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ নতুন অ্যাডহক কমিটির কর্মকর্তারা এখন সরাসরি বিওএর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান। পরিস্থিতি সমাধানে বিওএর মহাসচিব নতুন অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন। শনিবার রাত ৮টায় ওই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তপন জানান, বৈঠকে সমাধান না হলে প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের কাছে পরিবর্তিত তালিকা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হবে। একই সঙ্গে নিজেদের দাবি আদায়ে কর্মসূচির কথাও ভাবছেন কর্মকর্তারা। সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল হক সজল বলেন, ‘আমাদের দাবি মানা না হলে কী করতে হবে আমরা জানি।’ একই অভিযোগ জানালেন ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান শাকিলও। এশিয়ান গেমসের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরের আগে কর্মকর্তা নির্বাচন নিয়ে বিওএ ও ফেডারেশনগুলোর এই মুখোমুখি অবস্থান ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তুলেছে।