মাদারীপুরে মাদরাসায় বিস্ফোরণ, ৫ ছাত্রী আহত 

মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মহিলা মাদরাসার ভেতরে বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচ নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন মিনাজদী এলাকার সেলিম তালুকদারের মেয়ে জান্নাত (১২), গোপালপুর এলাকার রুবেল মাতুব্বরের মেয়ে তাসমিয়া আক্তার (১১), একই এলাকার শাহিন সরদারের মেয়ে মিনহা (১১) ও আরিফ সরদারের মেয়ে সুলতানা (১১)।  এদের মধ্যে আবিদা আক্তারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) আনা হয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে অন্যান্য দিনের মতো মাদরাসায় পাঠ নিতে আসে শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে মাদরাসার ভেতরে ইমন সরদারের বসতঘরের সামনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে শিক্ষার্থী আবিদার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎস তাকে ঢামেকে রেফার করেন। 
খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেন।

মাদরাসার ভেতরে বসবাসকারী ইমন সরদার বলেন, তার বসতঘরের সামনে কীভাবে বিস্ফোরকটি এলো। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

মাদরাসার মুহতামিম হাফিজুর রহমান বলেন, হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তারাও বুঝতে পারছেন না।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, ঘটনার কারণ ও বিস্ফোরকটি মাদরাসায় আসার উৎস জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর ও কালকিনি সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন,  প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বস্তুটি কেউ নিক্ষেপ করেনি। এটি জর্দার কৌটা বা টেনিস বলের মতো দেখতে ছিল। আগের দিন থেকেই সেটি সেখানে পড়ে ছিল এবং শিক্ষার্থীরা সেটি হাতে নিয়ে নড়াচড়া করেছিল বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, বিস্ফোরকটি সেখানে কীভাবে এলো এবং এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ কাজ করছে এবং মাদরাসায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।