'রোনালদোর নামে এয়ারপোর্ট, আমার নামে হেলিপ্যাড হলেও চলবে'

পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপের নাম বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফুটবলের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ছবি। তার দেশজয়ের সম্মানে সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির নামকরণ করা হয়েছে 'ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর'। এবার সেই একই দ্বীপে জন্ম নেওয়া সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার মোইজেস হেনরিক্স রসিকতা করে জানালেন, পর্তুগালকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তুলতে পারলে হয়তো তার নামে একটি 'হেলিপ্যাড' হলেও হতে পারে!

৩৯ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার অজিদের হয়ে ৪টি টেস্ট, ১৬টি ওয়ানডে ও ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তবে ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে জন্মভূমির টানে নিজ দেশ পর্তুগালের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ফিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপিয়ান সাব-রিজিওনাল কোয়ালিফায়িং টুর্নামেন্টে পর্তুগাল জাতীয় দলকে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন হেনরিক্স।

রোনালদোর জন্মস্থান মাদীইরাতে জন্ম নেওয়া হেনরিক্স মাত্র ২ বছর বয়সে বাবার সাথে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। বিবিসি-র 'স্টাম্পড' পডকাস্টে কথা বলার সময় রোনালদোর সাথে নিজের দ্বীপের যোগসূত্র টেনে হাসিমুখে হেনরিক্স বলেন, 'মাদেইরার সবচেয়ে জনপ্রিয় সন্তান নিশ্চিতভাবেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার সম্মানার্থে দ্বীপের বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। আমি যদি পর্তুগালকে বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে পারি, তবে হয়তো আমার নামে অন্তত একটি হেলিপ্যাড হলেও হতে পারে!'

পর্তুগালকে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করানোকে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখছেন সাবেক এই সিডনি সিক্সার্স অধিনায়ক। তিনি আরও যোগ করেন, "মাত্র পাঁচ বছর আগেও আমি জানতাম না যে পর্তুগালের একটি ক্রিকেট দল আছে! তবে ইতালি যেভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে, আমাদেরও মূল স্বপ্ন সেটাই পুনরাবৃত্তি করা। পাঁচ মাস আগে পিঠের অস্ত্রোপচারের পর কৃত্রিম (সিন্থেটিক) উইকেটে বল করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও আমি পর্তুগালের হয়ে মাঠ মাতাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।"

বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩৭ নম্বরে থাকা পর্তুগাল প্রথম পর্বে ফিনল্যান্ডের টুর্নামেন্টে গ্রুপ 'বি'-তে চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, গ্রিস ও ইসরায়েলের মুখোমুখি হবে। সেখান থেকে ধাপে ধাপে মূল পর্বের আঞ্চলিক ফাইনাল পেরিয়ে ইতালি বা অস্ট্রেলিয়ার মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ওঠাই এখন হেনরিক্স ও পর্তুগাল দলের প্রধান লক্ষ্য।