দৌলতপুরে প্রধান শিক্ষককে মারধর করে গেটে বেঁধে রাখার অভিযোগ

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমানকে মারধর করে স্কুলের গেটে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ গিয়ে আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ের এক আয়া কর্মীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে আমতলী বাজারে প্রধান শিক্ষককে আটক করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। 

পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের গেটে নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয়ের আয়া আমেনা বেগম বলেন, মারধরের পর আহত অবস্থায় প্রধান শিক্ষককে গেটে বেঁধে রাখা হয়। তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গেট খুলতে বাধ্য করা হয়। ভিডিওতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আব্দুল হাকিমসহ ৭–৮ জন রড নিয়ে তার ওপর হামলা করেন। পরে তাকে গেটে বেঁধে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। ৫ আগস্টের পর তাকে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা আন্দোলন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৫ আগস্ট এর পর স্থানীয় কিছু নেতৃবৃন্দ মজিবুর রহমানকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য একাধিক বার আন্দোলন করেছেন, হয়তোবা রাজনৈতিক জের ধরেই তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে জানান তারা।

এ বিযয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি স্বপন কুমার সরকার জানান, স্কুলের কাজের মহিলার সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। পরে পুলিশ পাঠিয়ে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসি। কোন অভিযোগকারী না থাকায় মজিবুর রহমানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।