অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ

এক, দুই, তিন, চার। একে একে চার দিনের মোট ১১টা সেশনেই নিজেদের দাপট জারি রেখে ডারউইনে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৫৭ রানের লক্ষ্যে সহজেই তাড়া করে ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। 

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট জিতল বাংলাদেশ। অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লাল বলের ক্রিকেটে এটিই প্রথম জয় না, এর আগে ঘরের মাঠের ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো ২০ রানে অজিদের হারিয়েছিল বাংলাদেশে। আর সেই তালিকায় দ্বিতীয় আর তর্কসাপেক্ষে এটিই এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের সবচেয়ে এলিট ফরম্যাটে শান্ত-মিরাজের সবচেয়ে ঐতিহাসিক জয়। 

ব্যাটে-বলেই দুইয়েই দারুণ পারফর্ম করে অজিদের নাস্তানাবুদ করলো শান্ত-হাসানরা। প্রথম ইনিংসে হাসান আগুনঝরা বোলিং আর তাসকিন- এবাদতদের পূর্ণসঙ্গ, সেখানে ১৯৮ রানেই বুকড অজিরা। পরে তানজিদ হাসানের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ আর মেহেদী হাসানের মিরাজের দৃঢ়তার ৬৫ রানে চড়ে ৪২৬ রানের বিশাল সংগ্রহ আর ২২৮ রানের পাহাড়সম লিড। ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরিতে সেই লিড ছাপিয়ে গেলেও মিরাজের ফাইফার আর হাসানের পেসে কেবল ৫৬ রানের লিড নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট প্যাট কামিন্সের দল। 

স্বল্প রানের এই লক্ষ্য পাড়ি দিতে নেমে অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল সফরকারীরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জশ হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফেরেন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম। সেখান থেকে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৪ ওভার ২ বলেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন মুমিনুল আর সাদমান ২৫ রানে। 

এর আগে ৬৭ রানে পিছিয়ে থেকে দিন শুরু করা অস্ট্রেলিয়া ১৭ রান যোগ করতেই মিরাজের শিকার হন অ্যালেক্স ক্যারি (৩০)। এরপর ৬৬তম ওভারে মিরাজের সোজা ডেলিভারিতে ৫ রানে বোল্ড হন ওয়েবস্টার। স্কোরবোর্ডে ১৯৩ রান উঠতেই কামিন্সকেও (৮) ফেরান এই ডানহাতি অফ-স্পিনার। দিনের শুরুর সেশনটা এভাবেই ছিল মিরাজময়। 

এরপর গ্রিন ও স্টার্কের ৪৩ রানের জুটিতে ইনিংস হারের শঙ্কা কাটলেও স্টার্ককে (২৫) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তাসকিন। ইনিংসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া ক্যামেরন গ্রিনকে বোল্ড করেন হাসান। পরে নাথান লায়নকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন মিরাজ। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১৯৮/১০ (স্মিথ ৭১, ওয়েদারল্ড ২৩, হেড ২২, কেরি ১৯, গ্রিন ১৩, ওয়েবস্টার ১২; হাসান ৬/৫৫, তাসকিন ২/৫৫, এবাদত ২/৩৯)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪২৬/১০ (১৩৮ ওভার) (মুমিনুল ৪৯, তানজিদ ১০১, শান্ত ৮৪, মুশফিক ৩৬, মিরাজ ৬৫, হাসান ১৪, তাইজুল ১৭, তাসকিন ১৪*; হ্যাজলউড ৬/৮৯, স্টার্ক ২/৭৯)।

অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস: ২৮৪/১০ (৯৫.১ ওভার) (ওয়েদারল্ড ০, হেড ১৭, লাবুশেন ৩১, স্মিথ ৪৪, ১০৪, ক্যারি ৩০, স্টার্ক ১৮;  হাসান ৩/৫৬, তাইজুল ১/৫১, মিরাজ ৫/৬৬)

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৭/১ (ওভার) (তানজিদ ০, মুমিনুল ৩০*, সাদমান ২৫*; হ্যাজলউড ১/৩)

ফলাফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী