‘রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরপুরের নকলায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে একটি র্যালি বের হয়ে উপজেলা পরিষদের পুকুরে দেশীয় প্রজাতির ২০ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হন অতিথিরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আলম বলেন, মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। একজন মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৬০ গ্রাম মাছের চাহিদা রয়েছে। দেশে মাছের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত। মৎস্য উৎপাদন আরও বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে মাছ চাষ করলে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। মাছের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৎস্য বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার জন্য চাষিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের আরও সচেতন হতে হবে। মাছের রোগবালাই দেখা দিলে নিজের মতো করে ওষুধ ব্যবহার না করে মৎস্য বিভাগের পরামর্শ নিতে হবে। মৎস্য চাষিদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। মৎস্য খাত মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে মাছ চাষ করা গেলে এ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানি, বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হক তালুকদার (চানু), উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর ও সফল মৎস্য চাষি আনোয়ার হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও সফল মৎস্য চাষি মোজাফফর মহিউদ্দিন বুলবুল সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মৎস্য চাষি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে সফল মৎস্য চাষিদের মাঝে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।