গোলাপি শহর ‘পেত্রা’

প্রাচীন ‘পেত্রা’ নগরী দক্ষিণ জর্ডানের বেলেপাথরে তৈরি খাড়াই পাহাড়ের গায়ে। মরুভূমিতে পাথরের বুক কেটে তৈরি হয়েছে ঐতিহাসিক নগরীটি। ‘গোলাপি শহর’ বলা হয় একে। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে এটি ‘নাবাতীয় সভ্যতা’র রাজধানী ছিল। এক সময় শহরটি হারিয়ে গিয়েছিল। ১৮১২ সালে জোহান লুডভিগ বুর্কহার্ড শহরটি আবিষ্কার করেন। ১৯৮৫ সালে বিশ^ ঐতিহ্য হিসেবে তা স্থান পায়। পাথরে খোদাই করা প্রাসাদ, মন্দির আর সমাধি। সূর্যের আলো পড়লে দেয়ালে বদলে যেত রঙ। কখনো গোলাপি, রক্তিম লাল কখনো সোনালি। প্রাচ্যের মসলা বাণিজ্যের চলাচলের অন্যতম পথ ছিল পেত্রার মধ্য দিয়ে। এখনো শহরের দেয়ালে সেই সভ্যতার নিঃশ্বাস লেগে আছে। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে পত্তন হয় শহরটির। ডেড সি এবং রেড সির মাঝে নগরীকে অনেক সময় ‘রোজ সিটি’ বলা হয়। কারণ যে পাথর থেকে এই শহর কেটে তৈরি করা হয়েছিল, তার রং লালচে। বাইবেলে নগরীটির বর্ণনা রয়েছে। সেখানে শহরটিকে উল্লেখ করা হয়েছে ‘পাথরের মাঝে ফাটল’ বলে। শহরের প্রবেশমুখ হলো, দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী একটি ফাটল যাকে ‘সিক’ বলে। পেট্রার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হলো ‘ফারাওর গুপ্তধন’ নামের একটি স্মৃতিসৌধ। ৩৬৩ সালের দিকে বড় ভূমিকম্প হয় অঞ্চলটিতে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ‘পেত্রা’র স্থাপনাগুলো। পরবর্তীকালে লুটেরাদের আক্রমণে অনেক মূল্যবান ধনসম্পদ হারিয়ে যায়। নাবাতিয়ান এবং রোমান-গ্রিক ধাঁচের স্থাপত্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুরো এলাকায়। নগরীর মাত্র ১৫ শতাংশ প্রত্নতাত্ত্বিকদের গবেষণার আওতায় এসেছে, বাকিটা অজানা। তবে বিজ্ঞানীরা হাল ছাড়েননি। সম্পূর্ণ তথ্য তারা অচিরেই জানবেন বলে জানিয়েছেন।