১২৪৪ কোটি টাকার সিড মানির ঘোষণা

ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রায় ১ হাজার ২৪৪ কোটি টাকার সিড মানি অনুমোদনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গতকাল রবিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে নবনিযুক্ত অ্যাডহক কমিটির ১৪টি ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় তিনি জানান, অনুমোদিত সিড মানি বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফেডারেশনগুলোর মধ্যে সুষমভাবে বণ্টন করা হবে। এই তহবিল থেকে পাওয়া বার্ষিক লভ্যাংশের ৭৫ শতাংশ ফেডারেশনগুলোকে দেওয়া হবে। তা দিয়ে খেলাধুলার নিয়মিত কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও খেলোয়াড়দের কল্যাণে ব্যয় করা যাবে। বাকি ২৫ শতাংশ মূল তহবিলে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে ক্রীড়া খাত একটি টেকসই আর্থিক কাঠামোর ওপর দাঁড়াতে পারে। ফেডারেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

ক্রীড়াঙ্গনে অপরাধ ও দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বিভিন্ন ফেডারেশনে জমে থাকা অনিয়ম ও অপকর্ম সরকারের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা এসব বিষয়ে তদন্ত করছে। দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কেউ প্রমাণসহ ধরা পড়লে শুধু সাংগঠনিক শাস্তি নয়, প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিতের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। দেশের প্রতিটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া প্রতিটি ফেডারেশনকে আগামী পাঁচ বছরের সুনির্দিষ্ট ক্রীড়া পরিকল্পনা ও ক্যালেন্ডার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বছরে জাতীয় পর্যায়ে অন্তত চারটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্তত তিনটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ বা দেশে আন্তর্জাতিক আসর আয়োজনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতার ক্ষেত্রেও জবাবদিহিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতি চার মাস পরপর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হবে। ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে ব্যর্থ হলে ভাতার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সম্ভাবনাময় নতুন খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সভায় অ্যাথলেটিকস, হকি, সাইক্লিং, সাঁতার, শুটিং, কাবাডি, ভলিবল, দাবা, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, টেবিল টেনিস, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, আরচারি ও অ্যামেচার বক্সিং ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।