নেত্রকোনার মদনে পূর্ববিরোধের জেরে দুদল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। তবে কেউ আটক হয়নি। গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলার ত্রিয়শ্রী ইউনিয়নের কাওয়ালীবিন্নি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। আহতদের মধ্যে স্থানীয় মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন চিকিৎসা নিয়েছে। এ ছাড়াও পাশর্^বর্তী কেন্দুয়া ও আটপড়াসহ আশপাশের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ১০ জন চিকিৎসা নেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার শুরু গত পবিত্র রমজান মাসে। ওই সময় কাওয়ালীবিন্নী গ্রামের বাসিন্দারা মিলে যৌথভাবে একটি গরু কেনেন। গরু জবাইয়ের পর সেই মাংস বণ্টন ও ভাগাভাগি নিয়ে গ্রামে অসন্তোষ তৈরি হয়। মাংসের হিস্যা নিয়ে তর্কবির্তকের একপর্যায়ে গ্রামের বাসিন্দারা স্পষ্ট দুটি পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে এই সাধারণ বিরোধটি সামাজিক রূপ নেয় এবং পুরো গ্রাম দুটি দলে ভাগ হয়ে যায়। এর আগেও এই মাংসের ভাগাভাগি ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পুরনো সংঘর্ষের জেরে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে মামলাও করে। এরই ধারাবাহিকতায়, গতকাল দুপুরে গ্রামের প্রভাবশালী ‘নজরুল গং’ এবং প্রতিপক্ষ ‘জাহাঙ্গীর গং’-এর কয়েকজন সদস্যের মধ্যে আকস্মিক কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই মৌখিক বিতর্ক তীব্র বিরোধে রূপ নেয়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন নিজ নিজ দলের সমর্থনে লাঠিসোঁটা, লোহার রড এবং ধারালো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গ্রামের পাশের একটি মাঠে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে উভয় দল মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে এবং গ্রামজুড়ে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। বেশ কিছু সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দিগি¦দিক ছোটাছুটি শুরু করেন সাধারণ গ্রামবাসী। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।