‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই আইনের অধীনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবকে বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর আওতায় এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে বিদ্যমান অর্থবছরের সময় পরিবর্তনেরও সিদ্ধান্ত হয়। দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি জুলাই-জুন সময়কালের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ সময়কে নতুন অর্থবছর হিসেবে গণনা হবে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রিসভায় ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। এ আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো বিদ্যমান র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর আওতায় স্পেশাল রেসúন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়েছে। নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে বলেও এতে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, র্যাব-সংক্রান্ত জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ড ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সম্পদ এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান র্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অর্থবছরের সময় বদলে এপ্রিল-মার্চ হচ্ছে : বিদ্যমান অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করেছে সরকার। দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি জুলাই-জুন সময়কালের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ সময়কে নতুন অর্থবছর হিসেবে গণনা হবে। আগামী ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ১ এপ্রিল-৩১ মার্চ সময়কে নতুন অর্থবছর ধরা হবে। এর আগে অন্তর্বর্তী সময় হিসেবে আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছর হবে ৯ মাসের; জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে মন্ত্রপরিষদ বিভাগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানায়।
অর্থবছর পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের যুক্তি দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে অর্থবছরের শেষ দিকে বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে। ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এর পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন অর্থবছর গণনা চালুর ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজনদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭ এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে। এ প্রক্রিয়া শেষ করতে আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে।