রাস্তায় ফেলে যাওয়া সেই জামাল উদ্দিন আর নেই

একদিন যে মানুষটি পরিবারের সুখের আশায় হাজার মাইল দূরে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন, জীবনের শেষ সময়ে সেই মানুষটিকেই পাওয়া গেল রাস্তার পাশে অসুস্থ ও অসহায় অবস্থায়। বৃষ্টিভেজা রাতে পড়ে থাকা সেই জামাল উদ্দিনকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল তীব্র আলোচনা। উঠেছিল নানা প্রশ্ন! কে তার পাশে দাঁড়াবে, কীভাবে হবে তার চিকিৎসা, আর কেনই বা জীবনের এমন কঠিন সময়ে তাকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে হলো এসব প্রশ্নের মধ্যেই গতকাল সোমবার মারা গেছেন জামাল উদ্দিন। গত ৪ আগস্ট “প্রবাসফেরত অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ” শিরোনামে দেশ রূপান্তরের শেষ পাতায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

গতকাল বিকেল ৩টার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এলাকায় ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে জামাল উদ্দিনের (৪৯) মৃত্যু হয়। জামাল উদ্দিন কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। প্রায় ২৫ বছর আগে নিজ গ্রাম ছেড়ে তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি দক্ষিণপাড়ার ইয়ার উদ্দিন মোড় এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সংসার ও পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে প্রায় ১২ বছর কাজ করেন।

গত ২ আগস্ট রাতে কালমেঘা এলাকায় স্থানীয়রা তাকে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। এর আগে ১ আগস্ট দিবাগত রাতে তাকে তার পৈতৃক ভিটার পাশের সড়কে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালমেঘা গ্রামের তার ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক আলোচনা ও সহানুভূতি।

গত ৬ আগস্ট এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার (১৫ আগস্ট) তাকে ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে গতকাল তার মৃত্যু হয়। এদিকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্ত্রী-সন্তানরা তার খোঁজ নেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অন্যদিকে জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তারের দাবি, তিনি কয়েক মাস আগে স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছেন। তার সঙ্গে এখন আর কোনো সম্পর্ক নেই।

কয়েক বছর আগে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন জামাল উদ্দিন। অসুস্থতার কারণে প্রায় আট মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন তিনি। এরপর থেকেই শুরু হয় তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। ঘটনার পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরেও আসে।