হামাসের সঙ্গে কুশনারের বৈঠক

গাজা শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নেতাদের সঙ্গে বিরল এক বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা আলজাজিরাকে বলেন, গত রবিবার মিসরের আলামেইন শহরে হামাসের নতুন নেতা খলিল আল-হাইয়ার নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সেগুলো কীভাবে যাচাই করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, এ উপত্যকা পরিচালনার সব দায়িত্ব গাজার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর শুরু করা এবং ভবিষ্যতে গাজা প্রশাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা না রাখা।

মিসরের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী কাতার ও তুরস্কও বৈঠকে যোগ দেয়। ছিলেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৈঠকে মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদ, কাতারের কূটনীতিক আলি আল-থাওয়াদি ও তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, কুশনার হামাসকে ‘সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বার্তা দেন, গাজা আর কখনোই ইসরায়েলের জন্য সন্ত্রাসের উৎস হতে পারবে না। কুশনার বলেছেন, গাজার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে না। অন্য একটি সূত্র জানায়, হামাস আবারও পরিকল্পনাটির প্রতি তাদের অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে চলেছে। তবে ইসরায়েল এ ধাপ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বরং স্থল অভিযান বাড়িয়ে মানবিক সংকট আরও গভীর করেছে এবং প্রকাশ্যে পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেছে।যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলেছে। সংগঠনটিকে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তবে সংঘাতের অবসানের আশায় ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি যোগাযোগের বিষয়ে ক্রমেই আগ্রহী হয়ে উঠেছে; এই বৈঠক তারই অংশ।  মিসর, কাতার ও তুরস্ক এই তিন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশ এবং আরও পাঁচটি মুসলিম দেশ জর্ডান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া ইসরায়েলের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের নিন্দা জানিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, হামাস নেতা খলিল আল-হায়া মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদের সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। হামাসের সঙ্গে বৈঠকের পর মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গেও বৈঠক করেন কুশনার। মিসরের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় বলেছে, ওই বৈঠকে গাজা ছাড়াও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গতকাল সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল কুশনারের। ধারণা করা হচ্ছে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা কমাতেই কুশনার ইসরায়েল ও মিসর সফর করেছেন।